আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৩ ফেব্রুয়ারি: অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন পার্ক গুলির মধ্যে থাকা বিভিন্ন মরচে পড়া লোহার রেলিং, ভেঙ্গে পড়া কংক্রিটের দেওয়ালে হঠাৎ করে নীল সাদা রঙের প্রলেপ। শুধুমাত্র কংক্রিটের ভাঙ্গাচোরা দেওয়াল ও মরচে ধরা লোহার গ্রিলের উপরে এই নীল সাদা রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু পার্ক গুলি সেই আগের মতই অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন। পার্কে থাকা শৌচালয় গুলো একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী। কোনোটা চলে গিয়েছে নদীগর্ভে, তো কোনোটা থেকে বেরোচ্ছে দুর্গন্ধ। বসিরহাটের ইছামতি নদীর পাড় সংলগ্ন রবীন্দ্র সৈকত, আলোর ঝরনা সহ বিভিন্ন পার্কগুলির বর্তমানে এমনই অবস্থা।

তৎকালীন বাম আমলে তৈরি হওয়া এই পার্কগুলোকে সংস্কার করে বসিরহাটবাসীর কাছে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার জন্য রাজ্য সরকার প্রায় এক কোটি পঁচাত্তর লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল। এই বরাদ্দের কথা জানার পর আনন্দে উৎফুল্লিত হয়েছিল বসিরহাটবাসী। ছোট্ট ঘিঞ্জি শহরের এই বাসিন্দারা ইছামতি নদীর পাড়ে সকালে বিকেলে এসে একটু শান্তির দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলবে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বাড়ির দাদু নাতিরা একটু খেলাধূলা করবে, সেই সব স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই হয়ে রইল। শুধুমাত্র মনোরঞ্জনের জন্য নীল সাদা রংয়ের পেল বসিরহাটবাসী। সেই আগের মতই অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে পার্ক গুলি। পার্কের ভিতর মাটি শক্ত হয়ে ফেটে গিয়েছে, আধমরা গাছগুলো একটু জল চাইতে চাইতে মারা গিয়েছে, জলের ফোয়ারার জায়গা গুলোতে এখন বসবাস করছে মশা। পার্কের লাইটের খুঁটি গুলো ভেঙ্গে মারাত্মকভাবে বেরিয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক তার। যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।

বসিরহাট বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, ‘এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই তৃণমূলের কাছে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার, সাধারণ মানুষ বুঝুক, তবে আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে শুধু পার্ক কেন আরো অনেক কিছু বসিরহাটবাসীদের উপহার দেব’।
তবে এই সব অস্বীকার করে বসিরহাট পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অসিত মজুমদার বলেন, ‘গ্রিন সিটি প্রকল্পের যে টাকা এসেছিল সেই টাকা দিয়ে বসিরহাট পৌরসভার সবকটি পার্কে যথেষ্ট উন্নয়ন করা হয়েছে। পার্কের মধ্যে রবীন্দ্র মুক্ত মঞ্চ তৈরি করা, উপযুক্ত লাইট লাগানো হয়েছে, অনেকে অনেক কিছু বলে উন্নয়নটা করে দেখাক।

