সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ৯ নভেম্বর: কেন্দ্রীয় সরকারের পুরনো পেনশন নীতি চালু করার দাবিতে ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় দুই শতাধিক কর্মী আন্দোলনে নেমেছে। মূলত এই প্রকল্পের জমিহারা পরিবার থেকে আসা গ্রুপ সি/ডি ও আপগ্রেডেশন গ্রুপ বি কর্মীরা বিক্ষোভ আন্দোলনে নেমেছেন।প্রকল্পের প্রায় আড়াইশো কর্মী গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে চিফ ইঞ্জিনিয়ারের অফিসের সামনে গত ১ নভেম্বর থেকে ধারাবাহিক ভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা প্রত্যেক দিন অফিসে হাজিরা দিয়ে এবং যারা শিফটিং ডিউটি করেন তারা সকাল ১১ টা থেকে একসাথে মিলিত হয়ে ১ ঘন্টা চিফ ইঞ্জিনিয়ার অফিস বিদ্যুৎ ভবনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনকারী কর্মীদের বক্তব্য, তাদের দাবি মানা না হলে এই আন্দোলন লাগাতার ভাবে চলবে। তাদের এই দাবি ও আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ডিভিসির আইএনটিইউসি, সিটু, ইউটিইউসি, বিএমএস, আইএনটিটিইউসি সহ সমস্ত স্থায়ী কর্মী ইউনিয়ন গুলি। তাদের দাবি, অবিলম্বে সকল ভূমিহারা পরিবার থেকে ডিভিসিতে স্থায়ী চাকরি পাওয়া কর্মীদের পুরনো পেনশন স্কিমের আওতায় আনতে হবে। যতদিন না তাদের দাবি মানা হচ্ছে ততদিন এভাবে বিক্ষোভ চলবে। প্রয়োজনে তারা পেন ডাউন করে কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন। এই মর্মে পেনশন থেকে বঞ্চিত এই সব কর্মীরা ডিভিসির সদর দপ্তর কলকাতার ডিভিসি টাওয়ারর্সে চেয়ারম্যানকে আবেদন পত্র পাঠিয়েছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আটের দশকের শেষে ডিভিসি এমটিপিএসের নির্মাণ কাজ শুরু করে। কারখানা করতে এখানের বেশ কয়েকটি গ্রামের চাষ জমি ও বাস্তু বাড়ি অধিগ্রহণ করে দেয় রাজ্য সরকার। জমি ও বাস্তুহারাদের দাবি মত ১৯৯৪ সালে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে ডিভিসি ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয় ৫২০ জন ভূমিহারাকে ডিভিসিতে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হবে এবং লিখিত চুক্তিতে বলা হয় প্রকল্পের ৩ নম্বর ইউনিট চালু হওয়ার সাথে সাথে এই সমস্ত ভূমিহারাদের নিয়োগ করা হবে। আন্দোলনকারী কর্মীদের আহ্বায়ক দেবাশিস মুখার্জি বলেন, ১৯৯৮ সালে ডিভিসির ৩ টি ইউনিট থেকেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করলেও ভূমিহারা পরিবার থেকে সকলকে নিয়োগ করা হয়নি। ২০০৪ সালের আগে পর্যন্ত ২৮০ জনকে নিয়োগ করা হলেও বাকিদের নিয়োগ হয় ২০০৮ সালে। ইতিমধ্যে ভারত সরকার একটি সার্কুলার প্রকাশ করে জানান, ১ জানুয়ারি ২০০৪ সালের পরে যারা কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় নিয়োগ হয়েছেন তারা পেনশন প্রকল্প থেকে বাদ যাবেন। দেবাশিস বাবু আরো বলেন, পরে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফের কেন্দ্রীয় সরকারের আরেকটি সার্কুলারে বলা হয় ১ জানুয়ারি ২০০৪ এর আগে যাদের ইন্টারভিউ হয়ে প্যানেল ভুক্ত হয়ে আছেন তারা পেনশন আওতার সুযোগ পাবেন।
আন্দোলনকারী কর্মী প্রশান্ত মন্ডলের দাবি, তারা সকলেই চুক্তিমত ১৯৯৪ সাল থেকেই প্যানেল ভুক্ত। ডিভিসি গাফিলতি করে প্যানেলের অর্ধেক চাকরি প্রার্থীকে নিয়োগ করে বাকিদের বঞ্চিত করেছে। ডিভিসিতে জমি দিয়ে এক শরিককে ১৯৯৬ সালে চাকরি দেওয়া হয় অন্য শরিকে দেওয়া হল ২০০৮ সালে। প্রথম জন পেনশন পাবেন অথচ দ্বিতীয় জন কেন পাবেন না এই নিয়েই আমাদের আন্দোলন।
এবিষয়ে আইএনটিইউসি পরিচালিত ডিভিসির কর্মচারী সংঘের সম্পাদক অরিন্দম ব্যানার্জি বলেন, ওদের দাবি ন্যায্য। আমরা ওদের পাশে আছি।
সিটু পরিচালিত ডিভিসি শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সুমন গোস্বামীও বলেন, একই সংস্থায় দুরকম নীতি চলতে পারে না। এদের সকলেরই ২০০৪ সালের আগে ডিভিসি নিয়মানুযায়ী ইন্টারভিউ নিয়ে তালিকা ভুক্ত করেছে। নিয়োগ না করে ওদের চাকরির মেয়াদ যেমন কমেছে তেমনি পেনশন থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা অনৈতিক ও নিয়ম বিরুদ্ধ।
এ বিষয়ে এমটিপিএসের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প প্রধান সঞ্জয়কুমার ঘোষ বলেন, বিষয়টি আমার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তবে একজন কর্মী অবসর নেওয়ার পরে যদি পেনশন না পান তাহলে তার যে দুর্দশা হয় সেটা অনুভব করতে পারি। ওদের দাবি পত্রটি বিবেচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

