আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ২৮ ডিসেম্বর: শিলিগুড়ি পৌরনিগম নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় চমক বামেদের। প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই নতুন মুখ। শুধু তাই নয়, প্রার্থী করা হয়েছে নবীনদের। মূলত শিলিগুড়ি পৌরনিগম নির্বাচনে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুনদের উপরই বেশি ভরসা করছে বামেরা। তবে এখনও কিছু আসনে রয়েছে আসন সমঝোতার জট।
মঙ্গলবার দার্জিলিং জেলা সিপিএমের দলীয় কার্যালয় অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বামফ্রন্ট। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য জীবেশ সরকার, অশোক ভট্টাচার্য, আরএসপি নেতা তাপস গোস্বামী, সিপিএমের জেলা সম্পাদক সমন পাঠক। আগামী ৩০ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে বামেরা। তবে প্রথম দফাতে বেশিরভাগ প্রার্থীই নবীন। মূলত, বিধানসভা নির্বাচন এবং কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শিলিগুড়ি পৌরনিগম নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পলিটব্যুরো। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তালিকায় নতুন মুখ ও ছাত্র, যুবদের প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এদিন তারই প্রতিফলন দেখা গেল তালিকা প্রকাশের পর।
এদিন পৌরনিগমের ৪৭ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৫ টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বামেরা। বাকি রয়েছে ১২ টি আসন। চারটি আসন গতবার কংগ্রেসের দখলে থাকায় ওই চারটি আসন এবারও কংগ্রেসকে ছেড়ে দিয়েছে বামেরা। তবে আটটি আসনে এখনও জট রয়েছে। ওই আটটি আসন নিয়ে পরবর্তীতে জোট শরিক ও জোট সঙ্গী কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে প্রার্থী তালিকায় ৩৫ টি আসনের মধ্যে ১৩ জন মহিলাকে প্রার্থী করা হয়েছে। ছটি আসন জোট শরিক আরএসপি, সিপিআই ও ফরওয়ার্ড ব্লককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই ছটি আসনের মধ্যে এদিন তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। ৩১ টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে সিপিএম৷ তবে গোটা তালিকায় ৩৫ জনের মধ্যে ২৭ জনই নতুন প্রার্থী। এতে দলে নতুন উদ্যোম আসবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে এবারের তালিকায় প্রাক্তন মেয়র পারিষদ নুরুল ইসলাম, প্রাক্তন চেয়ারম্যান দিলীপ সিং সহ মোট ছয় জন পুরানো কাউন্সিলরদের এবার প্রার্থী করা হয়নি।
জীবেশ সরকার বলেন, “অধিকাংশই নতুন মুখ। সঙ্গে পুরানো ও অভিজ্ঞদেরও জায়গা দেওয়া হয়েছে। এবারও আমরা পুরনিগম দখলে ঝাঁপাবো।”

