পরিবারতান্ত্রিক দল গণতন্ত্রের পক্ষে উদ্বেগজনক, সংবিধান দিবসে নাম না করে কংগ্রেসকে খোঁচা নরেন্দ্র মোদীর

আমাদের ভারত, ২৬ নভেম্বর: আজ সংবিধান দিবস। এইদিনে দেশের সংবিধানের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরিবারতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য কতটা বিপদজনক তার ব্যাখ্যা দিয়ে কার্যত নাম না করে কংগ্রেসকে খোঁচা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার কথায়, “পরিবারের দ্বারা, পরিবারের জন্য… আমার মনে হয় আর কিছু বলতে হবেনা। যদি একটি পরিবার বংশপরম্পরায় দল চালায় তা কখনই গণতন্ত্রের পক্ষে স্বাস্থ্যকর হতে পারে না। পরিবার নির্ভর দল কখনই সংবিধানকে রক্ষা করতে পারে না”

আজ সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত পরিবারতান্ত্রিক দলগুলির দিকে তাকান, এগুলি গণতন্ত্রের পরিপন্থী। ভারতের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে আমাদের সংবিধান। আজ সংসদ ভবনকে সালাম করার দিন। নাম না করেই আবারও কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত আজ এমন এক বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যার ফলে সংবিধানের প্রতি যারা সমর্পিত তারা উদ্বেগকে রয়েছেন। আজ পরিবারতান্ত্রিক দলগুলি গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাবান নন,যা মানুষের কাছে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ভারতের রাজনীতিতে পরিবারতান্ত্রিক দলের কোনো অভাব নেই। তবে এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে সরাসরি তোপ দেগেছেন। এর আগেও বহুবার রাহুল গান্ধী সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ঐতিহ্য ভাঙ্গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অভিযোগ করেছেন তিনি। আগামী বছরে বেশ কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা ভোট আর সেখানে বেশকিছু আঞ্চলিক দল বিজেপির প্রতিপক্ষ হলেও জাতীয় স্তরের বিজেপিকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা এখনও পর্যন্ত প্রায় কারোরই নেই। সেখানে এখনো পর্যন্ত প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসে বারবারই কংগ্রেসের নাম। তাই আবারও মোদী কংগ্রেসকে বুর্জোয়া দলের তকমা দিতে পিছপা হননি। কংগ্রেসকেই নিজেদের প্রধান বিরোধী হিসেবে ধরেই চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন।

২৬ নভেম্বর দিনটি ভারতের সংবিধান দিবস দেশজুড়ে এই দিনটি পালিত হচ্ছে। এদিন ভারতের সংবিধান গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে কেন্দ্র সরকার সরকারি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২৬ নভেম্বর দিনটিকে সংবিধান দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *