আমাদের ভারত, ২৭ নভেম্বর:করোনা পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসছিল ধীরে ধীরে। স্বাভাবিক হচ্ছিল জনজীবন। সবটা এবার স্বাভাবিক হবে বলে আশায় বুক বাঁধছিলো আমআদমি। স্কুল খোলার স্বপ্নে মজেছিল খুদেরা। কিন্তু হয়তো তাতে আবার বাধ সাধতে চলেছে করোনার আরও এক নতুন স্ট্রেন ওমিক্রন। চলতি সপ্তাহেই দক্ষিণ আফ্রিকাতে প্রথম খোঁজ মিলেছে করোনার এই নতুন স্ট্রেনের। এখনো পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া করোনার সমস্ত ট্রেনগুলির মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি সংক্রামক। ফলে দেরি না করে আজই শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিদেশ যাত্রা কিংবা বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি শিথিল করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছিল কিন্তু সেই চিন্তাভাবনাকে আবারো পর্যালোচনা করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আজকের বৈঠকে মোদী জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে বেশি করে সজাগ থাকা দরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফ থেকে যে দেশগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে সেই দেশগুলি থেকে আসা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে জোর দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মাস্ক-স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ যাবতীয় কোভিড সুরক্ষা বিধি মেনে চলার ওপর আবারও বিশেষভাবে জোর দেওয়ার কথা মনে করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদীর সঙ্গে আজকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সচিবরা,স্বাস্থ্যসচিব, কোভিড টাস্ক ফোর্সের প্রধান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
গতকালই বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রীর তরফের জানানো হয় আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ১৫ ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক বিমান চালু করা হবে। কিন্তু তার ঠিক পরদিনই নরেন্দ্র মোদী এই পর্যালোচনা বৈঠকে বসলেন। ফলে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা এখনই আগের মতো স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে যথেষ্ট ভাবনার বিষয় রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল অর্থাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে যে দেশগুলিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সেগুলির সঙ্গে বর্তমান এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় সাপ্তাহিক বিমান পরিষেবা চালু থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা, ইজরাইল, হংকং, বতসোয়ানাকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকাভুক্ত করেছে ভারত। এয়ার বাবল চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫% বিমান যাতায়াত করতে পারবে এই দেশগুলিতে।
চলতি সপ্তাহে ২৩ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম খোঁজ মিলেছে করোনার ওই ভ্যারিয়েন্টের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে এই ভ্যারিয়েন্ট এর নাম দেওয়া হয় ওমিক্রন। একই সঙ্গে ওমিক্রনকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

