স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৯ মে:
দীর্ঘ দেড় বছর ধরে করোনা আক্রান্ত রোগী থেকে মুমূর্ষু রোগীদের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে হেমতাবাদ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিংবা রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে নিজেই ড্রাইভ করে পৌঁছে দিচ্ছেন হেমতাবাদের বাসিন্দা পেশায় অ্যাম্বুলান্স চালক সেলিনা বেগম। দুঃস্থ পরিবারের একজন এমএ পাশ করা উচ্চশিক্ষিতা মেয়ে যেভাবে করোনা কালে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে পরিষেবা দিয়ে চলেছেন তাঁকে উৎসাহিত করতে দ্বিতীয় দফায় ৫০ হাজার টাকা পুরস্কৃত করলেন রায়গঞ্জের বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। শনিবার কল্যাণী সলভেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে হেমতাবাদ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে সেলিনার হাতে পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক তুলে দেন সংস্থার কর্ণধার কৃষ্ণ কল্যাণী। উপস্থিত ছিলেন হেমতাবাদ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডাঃ রাহুল বিশ্বাস সহ অন্যান্যরা।
রায়গঞ্জের বিধায়ক তথা বিশিষ্ট শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, সেলিনার কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁকে তাঁর কাজে উৎসাহিত করতে আমি তিনবছর বিশেষ অনারিয়ামে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতবছর ঠিক এই সময় সেলিনার হাতে প্রথম ধাপের ৫০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলাম। আজ এবছরের অনারিয়াম পুরষ্কার ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হল। সেলিনাকে দেখে মহিলাদের মধ্যে এই ধরনের কাজ করার মানসিকতা গড়ে উঠবে বলে তাঁর ধারণা। সেলিনার সুস্থ ও মঙ্গলময় জীবন প্রার্থনা করেন শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যাণী।

এদিকে হেমতাবাদ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডাঃ রাহুল বিশ্বাস জানিয়েছেন, রাজ্যের মধ্যে প্রথম কোনও মহিলা অ্যাম্বুলান্স চালক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি রোগীদের পরিষেবা দিয়ে চলেছেন। বিশেষ করে ২০২০ সাল থেকে চলা করোনা কালে যেভাবে নিজের জীবনকে বিপন্ন করে কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন সেলিনা তার কোনও তুলনা হয় না। হেমতাবাদের সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসক স্বাস্থ্য কর্মী সকলেই আজ সেলিনার কাজে গর্বিত। বিশিষ্ট শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যানীর কাছ থেকে দু’দুবার এই আর্থিক পুরস্কার পেয়ে খুশী মহিলা অ্যাম্বুলান্স চালক সেলিনা বেগম।

