সভাপতি ও চেয়ারম্যানকে আড়ালে রেখেই মেদিনীপুরে প্রচারে বিধায়ক জুন মালিয়া

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২১ ফেব্রুয়ারি: মেদিনীপুর শহরের ২৫টি ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থীদের ১৪ ও ১১ তে আড়াআড়ি বিভক্তি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মনোনয়ন পর্বে প্রার্থীরা একসঙ্গে না গিয়ে ১৪/১১ ফর্মুলায় বিধায়ক জুন মালিয়া ও জেলা সভাপতি সুজয় হাজরার নেতৃত্বে আলাদা আলাদাভাবে মনোনয়নও জমা দিয়েছেন। জুন মালিয়া বিধায়ক হওয়ার পরই মেদিনীপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেসে এই বিভাজন বলে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন।

পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারেও শহরের দেওয়ালে সেই বিভাজনের ছবি ধরা পড়েছে। সমস্ত প্রার্থীর প্রচার ব্যানার, পোস্টারে  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকলেও অনেকেই এলাকার ত্রিসীমানায় রাখেননি বিধায়ক জুন মালিয়ার ছবি। যা নিয়ে আড্ডা কিংবা চায়ের ঠেকে চলছে জমাটি আলোচনা। পুরসভার প্রশাসক সৌমেন খান তার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচার ফ্লেক্সে মমতা, অভিষেক ও নিজের পাশাপাশি জুন মালিয়ার ছবিও রেখেছেন। জুন মালিয়া বিধায়ক হওয়ার পরই সৌমেন বাবু পৌরপ্রশাসক পদটি পুরস্কার পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই তিনি বিধায়ক জুন মালিয়ার ছবি রেখে আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। এরকমই ছবি রয়েছে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাহুল বিষই, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্রানী দাস সহ সেই ১১টি ওয়ার্ডে, যাঁরা জুন মালিয়ার সঙ্গে প্রথম দিন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজয় হাজরার স্ত্রী মৌসুমী হাজরার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পোষ্টার, ব্যানারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিজের ছবি রাখলেও জুন মালিয়াকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কট্টর জুন বিরোধী ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বনাথ পান্ডব, ২১ নম্বরে আশিস চক্রবর্তী, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ইন্দ্রজিৎ পানিগ্রাহীর পোষ্টার ব্যানারে নেই জুন মালিয়া। এই ১৪ জন জুন মালিয়ার সঙ্গে মনোনয়ন জমা দিতে যাননি।

তবে এই প্রার্থীদের পোস্টার ব্যানারে তাঁর ছবি না রাখা হলেও বিধায়ক জুন মালিয়া প্রচার করছেন শহর জুড়েই। আপাততঃ দৃষ্টিতে তিনি অন্ততঃ কোনও দলাদলিতে নেই বলেই মনে হবে। ১৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নের সময় উপস্থিত না থাকলেও ২৫টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ জায়গায় তিনি প্রচারে যাচ্ছেন। যদিও অভিনেত্রী বিধায়ক এখানেও বিভাজনের রসায়ন তৈরি করছেন বলে মনে করছেন তার বিরোধী গোষ্ঠী। তাঁদের অভিযোগ, জেলার সাংগঠনিক সভাপতি সুজয় হাজরা কিংবা চেয়ারম্যান দীনেন রায় যাতে প্রচারে অংশ নিতে না পারেন সেজন্য তাদের বাদ দিয়েই কর্মসূচি তৈরি করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে খবর, সভাপতিকে না জানিয়েই তার ওয়ার্ডে একটি রোড-শো করেছেন বিধায়ক জুন। জানাগেছে, জেলার পৌর নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিত মাইতিকে নিয়ে জুন মালিয়া এসব কর্মসূচি নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে জুন মালিয়া কী তবে জেলায় বিকল্প নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হাঁটছেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *