পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ অক্টোবর: দুর্গাপুজোর আনন্দ থেকে যেন কেউ বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই এক মানবিক ও অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক ডঃ শঙ্কর কুমার গুছাইত। বয়স জনিত অসুস্থতা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে যাঁরা পুজোর চারটি দিন বাড়ির বাইরে বেরিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন না, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেদিনীপুর বিধায়ক সেবা কার্যালয় থেকে এই পরিষেবা চালু করা হয়। পরিষেবাটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বিধায়ক ডঃ শঙ্কর কুমার গুছাইতের মা গীতারানি গুছাইত।

দুর্গাপুজো বাঙালির আবেগ, আনন্দ ও মিলনের উৎসব। এই সময়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আলোর রোশনাই, সুসজ্জিত মণ্ডপ এবং দেবী দুর্গার দর্শনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে উৎসাহের অন্ত থাকে না। কিন্তু এই উৎসবের আনন্দ সবার জীবনে সমানভাবে পৌঁছয় না। অনেক বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ প্রবীণ নাগরিক, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ব্যক্তি এবং পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ মা- বাবা শুধুমাত্র শারীরিক অক্ষমতা কিংবা দেখাশোনার মানুষের অভাবে বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যেই দিন কাটাতে বাধ্য হন। বিশেষ করে যাঁদের ছেলে- মেয়েরা কর্মসূত্রে বিদেশে কিংবা দূরবর্তী স্থানে বসবাস করেন, তাঁদের পক্ষে পুজোর সময় মা দুর্গার দর্শনে বেরিয়ে পড়া অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে ওঠে।
এই সমস্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাঁদের পুজোর আনন্দে শামিল করার লক্ষ্যেই বিধায়ক ডঃ শঙ্কর কুমার গুছাইতের এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্যোগটির মূল ভাবনা হলো, শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেন কারও উৎসবের আনন্দের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সমাজের প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা এই পরিষেবা।

মেদিনীপুর বিধায়ক সেবা কার্যালয় থেকে চালু হওয়া এই বিশেষ পরিষেবাকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে যাঁরা ইচ্ছা থাকলেও মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। উৎসবের আনন্দকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের মানবিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
এই পরিষেবা যাতে প্রয়োজনের সময় সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে যায়, সেই উদ্দেশ্যে তিনটি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আজ চতুর্থীর পূর্ণলগ্ন থেকে এই পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি হেল্পলাইন নম্বরের নির্দিষ্ট নম্বরগুলি প্রকাশের জন্য উপলব্ধ তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আনন্দকে শুধু মণ্ডপে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাড়িতে থাকা প্রবীণ নাগরিক, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাযুক্ত মানুষ এবং অসহায় ব্যক্তিদের জীবনেও পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ মেদিনীপুরবাসীর কাছে এক আশার বার্তা বহন করছে। পুজোর আনন্দ সবার, এই ভাবনাকে সামনে রেখে বিধায়ক ডঃ শঙ্কর কুমার গুছাইতের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই বিশেষ পরিষেবা মানবিকতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

