জয়নগর থানার পুলিশের উদ্যোগে উদ্ধার অপহৃত, গ্রেফতার তিন অপহরণকারী

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ৫ সেপ্টেম্বর: গত ২ সেপ্টেম্বর জয়নগর থানা এলাকার বাসিন্দা, পেশায় রাজমিস্ত্রি অসীম নাইয়া নামে এক ব্যক্তি অপহৃত হন। কাজের জন্য বারুইপুরে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। রাতে তাঁর ছেলের কাছে ফোন করে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চান অপহরণকারীরা। বারুইপুর আদালতের কাছে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে এলেই তবে ছাড়া হবে অসীমকে, ফোনে এমনই হুমকি দিয়েছিলেন অপহরণকারীরা। সেই হুমকি ফোন পেয়ে জয়নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা।

অসীমের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে জয়নগর থানার পুলিশ। জয়নগর থানার আইসি অতনু সাঁতরার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল ৭২ ঘন্টার মধ্যে শনিবার রাতেই সুস্থ শরীরে মুক্তিপণের জন্য অপহৃত অসীম নাইয়াকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট থেকে উদ্ধার করে। গ্রেফতার হয় দুই অপহরণকারী। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সাধারণ তদন্তের পাশাপাশি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে জয়নগর থানার পুলিশ এই ঘটনার কিনারা করে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গত ২ সেপ্টেম্বর অসীম নাইয়া নিজের কাজে বারুইপুর যাওয়ার পথে কৃষ্ণমোহন রেল স্টেশনের কাছে কয়েকজন দুষ্কৃতি তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারাই বাড়ির লোকেদের থেকে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ফোনের মারফৎ। শুধু টাকার ল জন্য, না কি এই অপহরণের পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে এবং এই ঘটনার সাথে আর কারা কারা যুক্ত আছে সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ধৃত দুই অপহরণকারীকে জেরা করে সে সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে জয়নগর থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত তিন যুবকের নাম আলোক মন্ডল, নাড়ু মাইতি ও প্রদ্যুৎ নস্কর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে আলোক মন্ডল বিষ্ণুপুর থানা এলাকার বাসিন্দা এবং নাড়ু ও প্রদ্যুৎ বারুইপুর থানা এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের এদিন বারুইপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক দশ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে অসীমকে ফিরে পেয়ে খুশি ছেলে প্রভাস নাইয়া সহ পরিবারের সকলেই। তাঁরা জানান, “অপহরণকারীরা অসীমকে আটকে রেখে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল এবং পুলিশকে জানালে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছিল। তাই জয়নগর থানার আইসি অতনু বাবুকে অনেক ধন্যবাদ জানাই, বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে এভাবে দ্রুত অসীমকে উদ্ধার করার জন্য।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *