Ashok Kirtania, BJP, নার্স শুভ্রা দাসের র*হ*স্য*মৃ*ত্যু*র তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ, পুলিশকে কড়া বার্তা মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৯ জুন: এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত নার্স শুভ্রা দাসের রহস্যমৃত্যুর ঘটনার তদন্তে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেও ন্যায়বিচার না মেলায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ শুনেই পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী এবং তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেন।

নিহত শুভ্রা দাসের বাড়ি বনগাঁ এলাকায়। তাঁর শ্বশুরবাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে। তিনি কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতেন শুভ্রা। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। গত ২৩ জুন হিঙ্গলগঞ্জের একটি জলাশয় থেকে শুভ্রা দাস এবং তাঁর শিশুকন্যার দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও অত্যাচারের জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

শুভ্রার বোনের দাবি, শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা সবসময়ই নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করতেন এবং শুভ্রাকে মানসিক অবসাদগ্রস্ত বলে প্রচার করার চেষ্টা করতেন।

অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির দাবি ছিল, শ্বশুরের শেষকৃত্যের পর শুভ্রা নিজেই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হিঙ্গলগঞ্জ থানায় তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে লিখিয়ে নেওয়া হয়। এতদিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। রবিবার নিহতের পরিবারের সদস্যরা বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার সঙ্গে দেখা করে সুবিচারের আবেদন জানান। তাঁদের অভিযোগ শোনার পরই মন্ত্রী ঘটনাস্থলেই
তদন্তকারী আধিকারিক, হিঙ্গলগঞ্জ থানার আইসি এবং বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারকে ফোন করেন। ফোনে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হিঙ্গলগঞ্জ থানায় আমায় যেতে হলে ভালো হবে না। তাই এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়। এখনও কি তৃণমূল আমলের কাজের ধারা ভুলতে পারেনি পুলিশ?” একই সঙ্গে তিনি নতুন করে এফআইআর গ্রহণ করে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রীর এই হস্তক্ষেপে নিহত শুভ্রা দাসের পরিবারের সদস্যরা নতুন করে সুবিচারের আশা দেখতে শুরু করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরেও কোনও সুরাহা মেলেনি। মন্ত্রীর সক্রিয় উদ্যোগে অবশেষে তদন্ত সঠিক পথে এগোবে বলেই তাঁদের আশা। এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। রহস্যমৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *