NIA, মগজ ধোলাই করে চলছিল জেহাদি ট্রেনিং, সন্ত্রাসীদের বড়সড় ছক ধরে ফেলল এনআইএ, ধৃত ১১

আমাদের ভারত, ২৮ জুন: পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম ও ত্রিপুরার মতো উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত উল মুজাহিদিনের মতাদর্শ ও নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়ার এক গভীর চক্রান্তের ছক ফাঁস করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। এই সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুয়াহাটির বিশেষ এনআইএ আদালতে চার্জশিট জমা পড়েছে।

ধৃতদের বিরুদ্ধে নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩ এবং ইউএপিএ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির একটি শাখা ইমাম মাহমুদ কাফিলা’র মাধ্যমে পুরো চক্রান্তটি চালানো হচ্ছিল। জেএমবি’র প্রবীণ সদস্য ইমাম মাহমুদ হাবিব উল্লাহ ভারতীয় ভূ- খণ্ডে এই চরমপন্থী এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আইএমকে সংগঠনটি তৈরি করেছিল। এদের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলার পাশাপাশি উত্তর- পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের যুবকদের মগজ ধোলাই করা। গোপনে চরমপন্থী মতাদর্শের প্রচার চালানো এবং দেশের বিরুদ্ধে নাশকতা মূলক কাজের জন্য নিজেদের নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করা।

এনআইএ জানিয়েছে, এই ১১ জন অভিযুক্ত ভারতের বুকে নিজেদের ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত গোপনে নানা রকম বৈঠক করত। সেই সঙ্গে যুবকদের ধর্মীয় উগ্রপন্থা শেখানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে উস্কানি মূলক লিফলেট ও বইপত্র বিলি করা হতো। এমনকি ভারত বিরোধী প্রচারের জন্য তারা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করেছিল। এই তদন্তের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা তাদের সেই ডিজিটাল জাল পুরোপুরি ধরা পড়ে যায়। চার্জশিটে নাম থাকা ১১জনের মধ্যে দুজন মূল পান্ডাকে চিহ্নিত করেছে এনআইএ। এদের মধ্যে মোসিন উদ্দিন নামের একজন অসমে আইএমপির যাবতীয় কাজকর্ম দেখাশোনা করছিল। অন্যদিকে জাকির মিঞা নামে অন্য এক অভিযুক্ত ত্রিপুরার দায়িত্বে ছিল।

এনআইএ এই চক্রের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে আপত্তিকর নথিপত্র, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ডিজিটাল তথ্য প্রমাণ উদ্ধার করেছে, যা এই আসামিদের বিরুদ্ধে শক্ত মামলা সাজাতে সাহায্য করছে। পুরো নেটওয়ার্কটিকে গোড়া থেকে উপরে ফেলতে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এখনো তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *