শরতের শুরুতেই তারাপীঠের রাস্তায় দেখা মিলল ভাদু গানের শিল্পীদের, ক্ষয়িষ্ণু সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের প্রেরণা শিল্পী ভাতা

আশিষ মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৯ আগস্ট: শরতের সূচনায় সকালে ভাদ্র মাসের প্রথম দিনেই গ্রামে গ্রামে বেরিয়ে পড়েছে ভাদুগানের শিল্পীরা। আজ তারাপীঠের রাস্তাতেও দেখা গেল একাধিক ভাদু গানের দল। ভাদ্রের প্রথম দিন ভদ্রাবতীর মূর্তিতে পুজো করা হয়। তারপর সারা মাস ধরে গ্রাম ও শহরের পথে পথে চলে ভাদুগানের সফর।

ভদ্রাবতী দেবতা নয়। হবু স্বামীর জন্য তাঁর আত্মত্যাগের কাহিনী তাঁকে লৌকিক দেবী করে তুলেছে। শোনা যায় বিবাহের রাতে ডাকাতের হাতে ভাবী পতির বিয়োগ এবং তাঁর স্বেচ্ছায় সহ মরণের কাহিনী মানুষের কাছে তাঁকে স্মরণীয় করে তোলে। আবার কেউ কেউ বলেন পুরুলিয়ার পঞ্চকোটের রাজার পালিতা কন্যা ছিলেন ভদ্রাবতী। অঞ্জনের সাথে তাঁর প্রেমের কথা রাজা জানতে পারলে অঞ্জনকে হত্যা করেন। এই ঘটনা শুনে ভদ্রাবতীও প্রাণত্যাগ করেন। জনশ্রুতিতে ভিন্ন মত থাকলেও প্রেমের জন্য ভদ্রাবতীর স্বেচ্ছা মৃত্যু চির স্মরণীয়।

ভাদুগানের শিল্পীরা প্রত্যয়ী তাঁরা ভবিষ্যতেও এই গানের ধারা বজায় রাখবেন। রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের হরিওকার কাজল বাউড়ি জানালেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্পী ভাতা পেয়ে তারা বাংলার এই ক্ষয়িষ্ণু সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে প্রেরণাও শক্তি পেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *