আমাদের ভারত, ১৯ এপ্রিল: হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিস্থিতি তৈরি হয় দিল্লিতে। সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ায় সেখানে। ওই ঘটনার প্রভাব পড়েছে গোটা দেশেই। রাজধানী ছাড়াও একাধিক রাজ্যে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশের সাম্প্রদায়িক অশান্তি এড়াতে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, মাইক বাজলেও সেই শব্দ যেন ধর্মীয় স্থানের বাইরে না আসে। এছাড়াও ধর্মীয় মিছিল বের করা নিয়েও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন যোগী।
সোমবার সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন যোগী আদিত্যনাথ। সেখানে তিনি বলেন, অন্যান্য রাজ্যের মত হিংস্র পরিবেশ যেন তৈরী না হয় উত্তরপ্রদেশে। রাজ্যের প্রতিটি মানুষের নিজের ধর্ম পালনের অধিকার আছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়, একজনের ধর্মাচরণ যেন কোনো ভাবেই অন্যের অসুবিধার কারণ না হয়। মাইক বাজানো নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি। ট্যুইট করে যোগী জানিয়েছেন, মাইক বাজানো যেতেই পারে কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে সব মাইকের শব্দ যেন ওই ধর্মীয় স্থানের পরিসরের বাইরে না যায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মসজিদের মাইক বাজানো নিয়ে ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই যোগী বলেন, মাইকের আওয়াজে অন্যদের অসুবিধা হওয়া উচিত নয়। এছাড়া নতুন করে কোনও জায়গায় মাইক বাজাতে চাইলে তার অনুমতি নিতে হবে বলে জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।
ধর্মীয় মিছিল নিয়ে যোগী নির্দেশ দিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া কোনো শোভাযাত্রা বের করা যাবে না। মিছিল বের করতে হলে মিছিলের আয়োজকদের লিখিতভাবে জানাতে হবে ওই মিছিলে শান্তি বজায় রাখা হবে। তিনি জানিয়েছেন, ঐতিহ্যগতভাবে যে শোভাযাত্রাগুলি হয়ে থাকে সেগুলোকেই শুধুমাত্র অনুমতি দেওয়া হবে। নতুন কোনও ধরনের ধর্মীয় মিছিল আর করা যাবে না।
অক্ষয় তৃতীয়া এবং ইদ একই দিনে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আগে থেকেই আঁটোসাঁটো নিয়ম চালু করতে চাইছেন যোগী যে কোনো ধরনের অশান্তি এড়াতে। এছাড়াও আধিকারিকদের বিভিন্ন জেলার ধর্মীয় নেতৃত্ব ও বিশিষ্ট মানুষদের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উস্কানিমূলক মন্তব্য ছড়ালে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। যে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেন ধর্ম স্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, ট্রাফিকের সমস্যা যেন না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

