নিম্নমানের কাজের অভিযোগ, গলসীতে ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারকে পেয়ে ক্ষোভ গ্রামবাসীর

জয় লাহা, আমাদের ভারত, ১৯ এপ্রিল: কম পিচে রাস্তা। তৈরীর আগেই ছেড়ে পড়ছে। গ্রামের রাস্তা। কংক্রিট হলেও দু’পাশে ড্রেন তৈরীতে গাফিলাতি। কোথাও আবার তৈরী হওয়া ড্রেনের পাথর ছেড়ে পড়ছে। নিম্নমানের কাজের অভিযোগ। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ল গোটা গ্রাম। ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারকে কাছে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল গলসী-১ নং ব্লকের খাঁ পাড়া গ্রামে।

প্রসঙ্গত, গলসী-১ নং ব্লকের মানকর স্টেশন থেকে খাঁ পাড়া, খামারগ্রাম যাওয়ার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল ছিল। গতবছর রাস্তাটি জেলাপরিষদ থেকে পিচ করার অনুমোদন হয়। সেই মত রাস্তা তৈরীর কাজ শুরু হয়। জেলা পরিষদ সুত্রে জানাগেছে, ওই এলাকায় দুটো রাস্তা পাকা করা হয়েছে। গ্রামের ভেতরের রাস্তা কংক্রিটের তৈরী করা হয়েছে। দুটো গ্রামে প্রায় ১৭০০ মিটার কংক্রিটের রাস্তা তৈরী, তার সঙ্গে পাকা নিকাশী। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কংক্রিট রাস্তা তৈরী হলেও, গ্রামের ভেতর পাকা নিকাশী সব জায়গা করা হচ্ছে না। যেটুকু করা হচ্ছে, সেটাও নিম্নমানের ঠিক মতো মজবুত হচ্ছে না। কংক্রিটের পাথর খসে পড়ছে। সৃজনশীল কাজ হচ্ছে না। বর্ষায় যত্রতত্র জল আটকে থাকবে। ফলে গ্রামে রাস্তার পাশে বহু মাটির বাড়ি রয়েছে। সেগুলো জল দাঁড়িয়ে থাকলে ভেঙ্গে পড়বে। এছাড়াও পিচের রাস্তায় পিচ কম দেওয়ায়, ইতিমধ্যে ভেঙ্গে পড়ছে। তাই গোটা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরের ইঞ্জিনিয়ারকে আমরা লিখিত ভাবে জানিয়েছি।”

লিখিত অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারি ইঞ্জিনিয়ার প্রবীর কুমার পাল। সঙ্গে ছিলেন বরাত পাওয়া ঠিকাদার। এদিন ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারকে পেয়ে ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের দাবি, “রাস্তার দাবি দীর্ঘদিনের। তাই রাস্তা ও ড্রেন যেভাবে টেকসই ও মজবুত হয় সেভাবে গ্রামের রাস্তার পাশে পাকা ড্রেন করতে হবে।” যদিও গোটা রাস্তা পরিদর্শনের পর পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারি ইঞ্জিনিয়ার প্রবীর কুমার পাল জানান, “অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি সরেজমিন খতিয়ে দেখা হয়। নির্মাণ কাজ চলছে। গ্রামের রাস্তা এরকমই সংকীর্ণ। বেশ কিছু এলাকায় রাস্তার পাশে ড্রেন করার কোনো জায়গা নেই। রাস্তা লাগোয়া মাটির দেওয়াল। সামান্য মাটি ছাড়ালে বাড়িটা হয়তো ভেঙ্গে পড়বে। তবুও সিডুল মেনে কাজ করতে বলা হয়েছে। কাজ যেন ভাল করা হয়, সেটা বলা হয়েছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *