সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ৮ ফেব্রুয়ারি: মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির কাউন্সিলিংয়ের দিনেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে এক যুবকের আত্মহত্যা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার পাঁচাল গ্রামে। মৃত যুবকের নাম সায়ন কর্মকার (২১)।এই ঘটনায় গোটা গ্রাম শোকস্তব্ধ। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে।
সায়নের বাবা মঙ্গল দাস কর্মকার গ্রামেরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে সায়ন তার প্রথম সন্তান। মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী। মৃত সায়ন এবার নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সায়নের পরিবার সূত্রে জানা যায়, পঞ্চম শ্রেণি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সে খাতড়ায় মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছেন। এদিনই তাঁর মেডিক্যালের কাউন্সেলিংয়ের দিন ছিল। পড়াশোনায় অসম্ভব ভালো ছেলে সায়ন রাত জেগে পড়তে ভালোবাসতো। যার ফলে প্রতিদিন সকাল ১০ টার আগে ঘুম থেকে উঠত না। তার একটি পোষা কুকুর ছিল। এদিন সকাল থেকেই কুকুরটি চিৎকার করে পাড়া মাত করছিল। সায়নের বোন শত চেষ্টা করেও কুকুরের চিৎকার থামাতে না পেরে দাদাকে ডাকতে দোতলার ঘরে যায়। সায়ন ঘুম থেকে উঠছে না দেখে বাড়ির সবাই ডাকাডাকি করে। তাতেও সাড়া না পাওয়ায় প্রতিবেশীরা এসে ঘরের দরজা ভাঙ্গে। তখন দেখা যায় সায়ন সিলিংয়ের একটি হুকে কাপড়ের ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে। বাড়ির লোকেরা দেহটি নামিয়ে পাঁচাল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর দেওয়া হয় সোনামুখী থানায়। পুলিশ মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।
এদিন সায়নের বাবা মঙ্গলদাস কর্মকার ছেলের শোকে পাথর হয়েছিলেন। ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর কারণ কিছু খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। পাড়াতেও সবাই ওকে ভালবাসত। ও মেডিক্যালে চান্স পেয়েছিল। আজ ভর্তির ফি হিসাবে তার অনলাইনে টাকা জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু কীভাবে কী হলো বুঝতেই পারছি না। কোনো মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বলেও শুনিনি। সম্পূর্ণ ঘটনাটাই আমাদের কাছে ধোঁয়াশা’। সায়নের মা ছেলের শোকে পাথর হয়ে গেছেন। গ্রামের বাসিন্দা কৌশিক চ্যাটার্জি বলেন, সায়ন ছোট থেকে মামা বাড়িতে থাকায় গ্রামে বন্ধু বান্ধব খুব একটা ছিল না। বাইরেও বের হত কম। ওর ডাক্তারিতে চান্স পাওয়া শুনে গ্রামের প্রতিটি মানুষ খুশি হয়েছিলেন, একদিন গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করবে এই আশায়।

