শপথ নিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র গৌতম দেব

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ২২ ফেব্রুয়ারি: ঈশ্বরের নামে শপথ নিয়ে মেয়র হলেন গৌতম দেব। মঙ্গলবার সকালে শিলিগুড়ি পুরনিগমের কক্ষেই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানে বাকি কাউন্সিলররাও শপথ নেন। চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিলেন প্রতুল চক্রবর্তী। এদিন জেলাশাসক এস পুন্নমবলম শপথ বাক্য পাঠ করান। পুরো অনুষ্ঠানটি কমল অগরওয়ালের সভাপতিত্বে হয়েছে। তাকে রাজ্য সরকার থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এদিন সকলের সম্মতিতেই মেয়র হন গৌতম দেব। তিনি বলেন, “বিরোধীদের নিয়েই শহরের উন্নয়নে কাজ করা হবে।” পরে বাঘাযতীন পার্কে নাগরিক সম্বর্ধনা দেওয়া হয় প্রত্যেক কাউন্সিলরকে।
       
শপথ নিতে আসার আগে গৌতম দেব যান মহাবীরস্থানের আনন্দময়ী কালিবাড়িতে। সেখানে গিয়ে মায়ের পুজো দিয়ে তিনি বাড়ি যান। তারপর সরাসরি চলে আসেন পুরনিগমে। সেখানে উপস্থিত ৪৭জন কাউন্সিলরকে শপথ বাক্য পাঠ করান জেলাশাসক। এরপর কমল অগরওয়ালের সভাপতিত্বে মেয়র ও চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়। কিন্তু বিরোধিরা প্রার্থী না দেওয়ায় গৌতম দেবকে মেয়র ও প্রতুল চক্রবর্তীকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই পর্ব শেষ হতেই গৌতম দেব নতুন মেয়র হিসেবে নিজের চেয়ারে বসে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাকে ওই কক্ষেই সম্বর্ধনা জানান রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। এছাড়াও সিপিএম কাউন্সিলর সহ বিজেপি কাউন্সিলররাও তাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করেন। সেখানে হাজির হন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার গৌরব শর্মা সহ দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এস পুন্নমবলম ও মহকুমাশাসক এস ভেঙ্কটরাও পাতিল। পরে সব কাউন্সিলরদের নিয়ে বাঘাযতীন পার্কে যান মেয়র গৌতম দেব। সেখানে তাদের পুরনিগম সহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। তবে এই অনুষ্ঠানে বিরোধী কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন না। আবার আমন্ত্রণ পাওয়ার পরেও বাম-বিজেপি-কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধিও ছিলো না।

তবে মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে সকলের মন জয় করে নেন নব নির্বাচিত মেয়র গৌতম দেব। তিনি প্রথমেই শহরের প্রয়াত বিধায়ক ও সাংসদ সহ মেয়রকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রয়াত নেতারা ছিলেন শিলিগুড়ির পথ প্রদর্শক। তাই এদিন তাদের স্মরণ করলাম। শহরকে এগিয়ে যেতে আমাদের দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে হবে। তাই বিরোধীদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হবে। শহরের উন্নয়নের কাজের জন্য প্রাক্তন মেয়র, বর্তমান শহরের বিধায়ক সহ সাংসদের সহযোগিতাও লাগবে। তিলে তিলে তিলোত্তমা গড়ে তুলবো আমার শহরকে। সকলে মিলে একটা পরিবার হয়ে কাজ করতে চাই। যদি কিছু ভুল হয় আপনারা সমালোচনা করবেন। ভুল শুধরে দেবেন কারণ এই শহরকে সুন্দর করে গড়ে তোলাই লক্ষ্য আমাদের।” তিনি আরও বলেন, “এই জয়ের সমস্ত কৃতিত্ব শিলিগুড়ির মানুষের। তাই এই জয় তাদের অর্ঘ্য নিবেদন করছি। এখন শহর গড়ে তোলার দিন তাই সামনের দিকে তাকাতে হবে। কে কি করে গিয়েছে তার ময়নাতদন্ত করার সময় নয়। তাই সকলের সুপরামর্শ নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই আমরা। মন কি বাত যেমন করব আবার মন কি বাত শুনবও। কারণ এই শহরের উন্নয়নের স্বার্থে নাগরিকদেরও পরামর্শ চাই।”
         

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *