Sukanta, BJP, মার্কস লেনিন অনুপ্রবেশকারী, বাংলার জনগণ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে: সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ৪ সেপ্টেম্বর: মার্ক্স- লেনিন অনুপ্রবেশকারী, বাংলার মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেবে। সেটাই তারা করছেন, এভাবেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাবধারা চিরকাল এই বাংলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, আগামীতেও তাই থাকবে।

২০২৬ সালকে বিপ্লব হিসেবে দেখা হচ্ছে। বন্দে মাতারম নিয়ে মানুষের আবেগ ধরা পড়েছে। মানুষ যেন পরিত্রাণ খুঁজছিলেন। “মোদী হ্যায় তো মুমকিন হে” স্লোগান ফিরে এসেছে এই রাজ্যে। রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা এখন সুরক্ষিত। রাজ্যের মানুষ বিজেপি সরকার পেয়ে অত্যন্ত খুশি বলেই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “আমি মনে করি পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের প্রতি মানুষ অত্যন্ত খুশি। ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রায় ৫০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছে।” তাঁর মতে, বাংলার মাটি বন্দেমাতারমের মাটি। বরং মাঝখানে লেনিন- মার্ক্স কোনভাবে অনুপ্রবেশ করে ঢুকে গেছে। তাঁর কথায়, লেনিন- মার্ক্স খুব বেশি হলে অনুপ্রবেশকারীর তকমা পেতে পারে। বাংলার জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে অনুপ্রবেশকারীদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়ানো হবে, সেটাই হচ্ছে। তাঁর মতে, কার্ল মার্কস- লেনিন বিদেশি। এদের ভাবধারার সঙ্গে ভারতবর্ষের মানুষ কিভাবে মিল খুঁজে পাবে? ভারতের নিজস্ব দর্শন, ভাবনা ও ঐতিহ্য রয়েছে। ভারতের মানুষ তার সাথে সম্পৃক্ত।

তাঁর কথায়, বাংলা বরাবর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাবধারায় সম্পৃক্ত। পশ্চিমবঙ্গকে বাঙালি হিন্দু হোমল্যান্ড হিসেবে রাখার দাবি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই করেছিলেন। অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ তৈরীর ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের যে অবদান তা স্বাধীনতার পর থেকেই বিশেষত তাঁর মৃত্যুর পর থেকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কংগ্রেস, বামফ্রন্ট, তৃণমূল, সকলেই সেটাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কারণ রাজনৈতিক পরিচয় এদের ভিন্ন হলেও এদের মানসিকতা একই রকম ছিল। তাঁর দাবি, বাঙালি হিন্দুদের হোম ল্যান্ড যদি প্রয়োজন না হতো তাহলে পশ্চিমবঙ্গের দরকারই ছিল না। গোটা বাংলাই বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেত। বাঙালি হিন্দুদের যে হোমল্যান্ডের প্রয়োজন, সেটি প্রথম যিনি দাবি তুলেছিলেন তাঁর নাম শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। পরবর্তীতে অনেকে তাকে সহযোগিতা করেছিলেন এই বিষয়ে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের আশীর্বাদ নিয়ে এই দাবি পূরণের পথে এগিয়ে চলা শুরু করেছিলেন। অতএব শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি প্রণীত চিন্তা ধারাই এই বাংলায় চলবে। এটাই স্বাভাবিক। এটাই বাংলার সঙ্গে খাপ খায়। বাংলার চরিত্রের সঙ্গে মেলে। বরং মাঝখানে কিছু লোক বাংলার চরিত্র অন্যরকম ভাবে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সত্য ইতিহাসকে বেশিদিন ধামাচাপা দেওয়া যায় না।

অন্যদিকে বিধি বিভ্রান্তি তৈরি করে অভিন্ন দেওয়ানি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিরোধীরাই আসলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, আমরা না। তারাই বিভেদ তৈরি করে রেখেছে। তিনি বলেন, “আমার নাম সুকান্ত মজুমদার। আমি একজন মহিলাকে বিয়ে করেছি, এবং তাতেই আমি খুশি। অথচ যার নাম মহম্মদ সেলিম তার চারটে বিয়ে করার অধিকার আছে। তাহলেই বলুন বিভেদ কারা করছে? এখনকার সময় একটি বউ নিয়ে সামলানো যাচ্ছে না চারটে বিয়ে করার চেষ্টা করছে। এসব তো মধ্যযুগীয় বর্বর চিন্তাভাবনা।” তিনি এও বলেন, “বাস্তব ক্ষেত্রে বাংলার ৯৯ শতাংশ মুসলিমরাও তা করেন না। আমরা কেবল সেটাকেই আইনগত দিকে আনতে চেষ্টা করছি। ভারতের সংবিধানে বলা আছে জাতি- ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে প্রশাসন সকলের সঙ্গে সমান ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে তো এটা সমান নয়, এটা অসমান। তাহলে এটাতে আপত্তি কেন?” তিনি আরো বলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তো মহিলাদের জন্য ভালো। এদিকে তারা মহিলাদের প্রোগ্রেসিভনেসের কথা বলছেন, আর অন্যদিকে এই ধরনের মধ্যযুগীয় চিন্তাভাবনাকে সাপোর্ট করছেন। এরপর তিনি কটাক্ষ করে বলেন,”বিরোধীদের বলুন মাকর্সবাদ দিয়ে এটিকে ব্যাখ্যা করে দেখাতে। একজনের চারটি বউ, কিভাবে মার্কসবাদ এটাকে ব্যাখ্যা করে সেটা তারা বলুক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *