চন্দনের ফোঁটা নিতে বাগদায় আসতেন মমতার ভাই, দাবি তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৩ ফেব্রুয়ারি: চন্দনের ফোঁটা নিতে তার বাড়িতে আসতেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্ত্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশি পাহারায় বস্তা বস্তা টাকা যেত কলকাতায়। এলাকার শিক্ষক থেকে বিডিও এমনকি থানার অফিসাররাও জানতেন সেই কথা। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন বাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য অনুপ ঘোষ। সম্প্রতি চন্দনকে জেরা করে প্রায় ১৬ কোটি টাকার লেনদেনের হদিস পাওয়া গিয়েছে। আর সেই টাকা নাকি তোলা হয়েছিল অযোগ্য চাকরি প্রার্থীদের চাকরি বিক্রি করে। এরপর এই প্রথমবার গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য থেকে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, চন্দন ওরফে সৎ রঞ্জন মণ্ডলের বাড়ি রাজ্যের প্রভাবশালীদের যাতায়াত ছিল। চন্দনের ফোঁটা সবাই নিয়েছে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্ত্তিক বন্দ্যোপাধ্যাও আসতেন এই বাড়িতে। সিবিআই তো ১৬ কোটির হদিস পেয়েছে। ঠিকঠাক তদন্ত করলে ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এই মামা-ভাগ্নে গ্রামে প্রায় ১০০ অযোগ্য ছেলে-মেয়েদের চাকরি দিয়েছেন। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনা সহ আশপাশের প্রচুর ছেলে মেয়েদের টাকার বিনময়ে চাকরি করিয়ে দিয়েছেন চন্দন ওরফে রঞ্জন মণ্ডল। সকাল থেকে চন্দনের বাড়ির উঠানে মেলা বসে যেত। অনুপবাবু বলেন, উপেন বিশ্বাস বাগদার বিধায়ক ছিলেন। তিনি রাজ্যের মন্ত্রীও ছিলেন। তিনিই একমাত্র এর প্রতিবাদ করেছেন। তিনি একজন নিষ্ঠা প্রতিবাদী মানুষ ছিলেন। দল থেকে ভালো মানুষদের তাড়িয়ে এই পার্থ চট্টপাধ্যায় আর কুনাল ঘোষের মদতে সিপিএমের দালালদের দলে এনে এই দুর্নীতি করেছে। চন্দন মণ্ডল, মানিক ভট্টাচার্য, শান্তিময়, পরেশ অধিকারীরা সিপিএমের দালাল ছিল। এদের দলে নিয়েছে কুনাল ঘোষ আর পার্থ চট্টপাধ্যায়।

অন্যদিকে চন্দনের প্রতিবেশী ভাগ্নে অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, চন্দন মামা ডি গ্রুপে চাকরি দেওয়া জন্য ১২ লক্ষ, প্রাইমারীর জন্য ১২ লক্ষ, টাকা নিতেন। প্রথমে পাঁচ লক্ষ টাকা জমা দিতে হতো। পরে চাকরি হওয়ার পর বাকি সাত লক্ষ টাকা দিতে হতো। এমনকি তার ভাইপোদের চাকরি দিয়েছেন চন্দন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *