আমাদের ভারত, ১১ এপ্রিল:চতুর্থ দফার ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে কোচবিহারের শীতলকুচিতে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন। এই ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ষড়যন্ত্রকারী বলে তোপ দেগে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও তিনি এই ঘটনাকে গণহত্যা বলেও অভিহিত করেছেন। রবিবারের এর পাল্টা দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেছেন, শীতলকুচিতে ৪ জনের মৃত্যুতে মমতাজি শোক প্রকাশ করছেন কিন্তু এই একই দিনে যে আনন্দ বর্মন নামেও এক নতুন ভোটারদের মৃত্যু হয়েছে সে কথা উনি ভুলে গিয়েছেন। তার জন্য এক ফোঁটা ও চোখের জল তিনি ফেলেননি। কারণ আনন্দ বর্মন তাঁর তোষণের রাজনীতির অংশিদার নন। শাহ মৃত্যু ঘটনাতেও মমতার বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ করছেন। তাঁর কথায় মৃত্যুর চেয়ে এটা বেশি দুঃখজনক।
চতুর্থ দফার ভোটের দিন শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের জোড়পাটকির বুথের সামনে সংঘর্ষের সময় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন, হামিদুল হক, মনিরুল হক, সামিউল মিঞা ও নূর আলম নামে চার যুবক। এছাড়াও ওই একই দিনে একই বিধানসভা এলাকায় প্রথমবার ভোট দিতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে আনন্দ বর্মন নামে এক নবীন ভোটারেরও। চারজন ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার মাঝে আনন্দ বর্মনের মৃত্যুর ঘটনা খানিকটা চাপাই পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ঘটনার ২৪ ঘন্টা পরেই এই প্রসঙ্গটিকেই হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শাহের মতে, ৪ মুসলিম যুবকের প্রাণহানি নিয়ে তৃণমূল নেত্রী যতটা সোচ্চার, আনন্দ বর্মন অর্থাৎ এক রাজবংশী যুবককে মৃত্যুতে তিনি ততটাই উদাসীন। কারণ সে তার তোষণের রাজনীতির অংশিদার নন। অথচ তার পরিবারের পাশেও থাকা উচিত ছিল মুখ্যমন্ত্রীর বলে দাবি করেছেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, এই ধরনের রাজনীতি বাংলার সংস্কৃতি নয়। শীতালকুচির ঘটনার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কারণ তাঁর কথায় মমতাই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করে রাখার জন্য জনতাকে উস্কানি দিয়েছিলেন। যার ফলস্বরূপ শীতলকুচির ঘটনা ঘটেছে।
শীতলকুচি ঘটনার পর ৭২ ঘন্টা কোচবিহারে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই কারণেই শীতলকুচি যাওয়ার কথা থাকলেও আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে যায়নি। তবে সশরীরে সেখানে উপস্থিত না হলেও ভিডিও কলের মাধ্যমে নিহত যুবকদের পরিবারের সাথে কথা বলেছেন তিনি। তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

