কংগ্রেসকে উপেক্ষা! ইউপিএ-র অস্তিত্বই নেই মন্তব্য করে, শরদকে পাশে নিয়ে বিজেপি বিরোধী বিকল্প ফ্রন্ট গড়ার ডাক মমতার

আমাদের ভারত, ১ ডিসেম্বর: সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে একটি ঠান্ডা লড়াই চলছে। সোমবার ১২ জন বিরোধী দলনেতাকে রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড করায় কংগ্রেস যে বিবৃতি প্রকাশ করে তাতে তৃণমূলের সাংসদদের নাম ছিল না। এরপর সেই সংঘাতকে আরও এক ধাপ তৃণমূল নেত্রী মুম্বাই থেকে বাড়িয়ে দিলেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আজ শরদ পাওয়ারকে পাশে নিয়ে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্টতই বলেছেন, ইউপিএ-র অস্তিত্বই নেই। ফলে বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর ফ্রন্ট তারা গঠন করতে চান।

বুধবার মুম্বইয়ে বিশিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে বিজেপিকে বোল্ড আউট করার ডাক দিয়ে এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মমতা বলেন, ইউপিএ কোথায়? ইউপিএ-র কোনো অস্তিত্বই নেই।

সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়েও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে মেঘালয়ে কংগ্রেস শিবিরে ফাটল ধরানোর ক্ষেত্রে তৃণমূলকে দায়ী করেছে কংগ্রেস। তবে এতো কিছুর পরেও মমতার সঙ্গে মানিয়ে চলতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খারগে। কিন্তু তার পরেও মমতার আজকের মন্তব্য নতুন করে চাপ তৈরি করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিনের বৈঠক শেষে শরদ পাওয়ার বলেন, আজকের পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেটা কংগ্রেস কিংবা যে কেউই হোক না কেন। এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইতিবাচক কথা হয়েছে। দেশে যারা ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে তাদের এক মঞ্চে আসা দরকার। এমন একটি জোট গড়তে হবে যাতে মানুষের আস্থা থাকে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শরদজি উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। কিন্তু উদ্ধবজির অসুস্থতার জন্য তার সঙ্গে দেখা হয়নি। সঞ্জয় রাউৎ এবং আদিত্য ঠাকুরের সঙ্গে কথা হয়েছে। দেশে ফ্যাসিজম চলছে। বিজেপির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বিকল্প প্রয়োজন। একা কেউ লড়তে পারবে না। শরদজি সিনিয়র নেতা ওর সঙ্গে বহু দিন কাজ করেছি। উনি যা বলেছেন তার সঙ্গে আমি সহমত। একটি শক্তিশালী বিকল্প তৈরি করার প্রয়োজন যারা লড়াই করতে পারবে।

তারপরই সাংবাদিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেন তাহলে কি ইউপিএ’র নেতৃত্ব শরদজিকে করা উচিত? তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ইউপিএ কোথায়? ইউপিএ-র কোনো অস্তিত্বই নেই। কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন বিজেপির বিরুদ্ধে সম্মিলিত মঞ্চ গড়ে লড়তে চায় তৃণমূল সহ আঞ্চলিক দলগুলি।কিন্তু কেউ যদি লড়তেই না চায়, তাহলে আর কি করা যাবে? মমতার ইঙ্গিতে স্পষ্ট ইউপিএ নয় বিজেপিকে রুখতে বৃহত্তম ফ্রন্ট বানাতে চান তিনি। আর সেই ফ্রন্টে বিভিন্ন রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলিকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করবে তৃণমূল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *