নন্দীগ্রামের মতো শীতলকুচির ঘটনাকেও গণহত্যা বলে দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আমাদের ভারত, ১১ এপ্রিল: কোচবিহারের শীতলকুচিতে ৪ জনের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে। এই ঘটনা নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করছে করছে বিজেপি তৃণমূল উভয়েই। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনা প্রসঙ্গে এবার নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন। বললেন এটাও নন্দীগ্রামের মতোই গণহত্যা।

২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে গুলি চালানোর ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জন কৃষকের। নন্দীগ্রামের সেই ঘটনার সাথে শনিবার ঘটে যাওয়া শীতলকুচি ঘটনাকেও তুলনা করে মমতা বলেন, শীতলকুচির ঘটনাও গণহত্যা। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের উপর ভর করেই ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল। এবার সেই নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হয়েছেন মমতা নিজেই। রবিবার তিনি শিলিগুড়িতে বলেন, নন্দীগ্রামের গণহত্যা আমি দেখেছি। এটাও গণহত্যাই।

শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালানো নিয়ে শনিবারে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন কেন গুলি চালানো হলো? নিয়মের ব্যাখ্যাও চেয়েছেন তিনি। মমতা বলেন, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ব্যবহার, রাবার বুলেট চালানোর নিয়ম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকাতেও তাই বলা আছে। কিন্তু তা না করে কেন গুলি চালানো হলো?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো প্রশ্ন তুলেছেন শরীরে ওপরের অংশে গুলি চালানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী বুকে গুলি মেরেছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ ওই চারজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই সবকিছু চলছিল। কোথাও কোনও ঝামেলা ছিল না। নাম না করে বিজেপিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, মানুষকে ভয় দেখানোই ওদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু তাতে মানুষ ভয় পায়নি। আসলে মানুষ ওদের নিয়ে বিরক্ত।

অন্যদিকে শনিবার গুলি চালানোর ঘটনায় কমিশন জানিয়েছে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। একই সঙ্গে‌ ৭২ ঘণ্টার জন্য কোচবিহার সব রাজনৈতিক নেতাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে কমিশনের তরফে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েও মমতা অভিযোগ করেছেন। তার কথায় তথ্য বিকৃত করার জন্যই সেখানে তার যাওয়া থেকে আটকানো হয়েছে। মমতার কথায় নির্বাচন কমিশন যা করছে তা নজিরবিহীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *