INDIA, NDA, Mamata, মমতা ইন্ডিয়া জোটে- তৃণমূল কংগ্রেস এনডিএ জোটে, ভেঙে খান খান TMC, বিজেপি সঙ্গী বিদ্রোহীদের কাছেই কি থাকবে দলের প্রতীক?

আমাদের ভারত, ৮ জুন: পরিষদীয় দলের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙ্গনের জল্পনা সত্যি হলো। এনডিএ’র সঙ্গী হতে চেয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদরা। আপাতত ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সাংসদের সই করা চিঠি জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। নেতৃত্বের চিঠি জমা পড়েছে। ফলে এবার বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও আসল- নকল তৃণমূলের দ্বন্দ্ব শুরু। তবে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব কার কাছে থাকবে দলের প্রতীক?

আগেই হাতছাড়া হয়েছে বিধানসভার পরিষদীয় দল। এবার সব আশঙ্কা সত্যি করে লোকসভাতেও হাতছাড়া হলো সংসদীয় দল। দিল্লিতে যখন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান। তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ বিজেপি নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়াতে যোগ দিতে চিঠি দিলেন স্পিকারকে। বিদ্রোহীদের দাবি, এই সংখ্যা আরো বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রইলেন মাত্র গুটি কয়েকজন সাংসদ।

রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরেই তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শুরু হয় বিদ্রোহ। এরপরই পরিশোধীয় দলের মালিকানা হাতছাড়া হয়ে যায় তৃণমূল নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়ক নেত্রীকে ছেড়ে বিদ্রোহী তৃণমূলে যোগ দেয়। তারপর থেকেই শোনা গিয়েছিল একই জল্পনা হতে চলেছে সংসদীয় দলে। তারই মধ্যে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে উড়ে আসেন মমতা এবং অভিষেক দু’জনেই। সোমবার যখন সেই বৈঠক শুরু হয় তারই মধ্যে নজিরবিহীন ছবিও উঠে আসে রাজধানীতে। সে বৈঠক চলাকালীনই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় তৃণমূল সংসদীয় দল। ফলে এখন যে ছবি দাঁড়িয়েছে সেই অনুযায়ী মমতা এখন ইন্ডিয়া জোটে, তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে।

মমতা এবং অভিষেকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনডিএ ব্লকে যুক্ত হতে চেয়ে সই করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রসূন বন্দোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশ বসুনিয়া, কালিপদ সরেন, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকার, ইউসুফ পাঠান, দেব, আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কীর্তি আজাদ, সায়নী ঘোষ। কিন্তু বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, তাদের শিবিরের সংখ্যা আরো বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজনের নাম নিয়েও রয়েছে জল্পনা। তবে এই সব কিছুর উপরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৃণমূলের ঘাসফুলের প্রতীক কার দখলে থাকবে? এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তর জটিলতা তৈরি হতে চলেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *