Arup Chakraborty, TMC, বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বিক্ষুব্ধ শিবিরে, হাজির দিল্লির বৈঠকে

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৮ জুন: অবশেষে বাঁকুড়া জেলার দাপুটে তৃণমূল নেতা ও সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীও বিক্ষুব্ধ সাংসদের দলে ভিড়লেন। দিল্লিতে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বৈঠকে তার হাজিরায় বাঁকুড়া জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তাহলে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে কি সম্পর্ক ত্যাগ করতে চলেছেন বাঁকুড়ার সাংসদ? অরূপ চক্রবর্তী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করতে পারে সম্প্রতি এরকম একটা জল্পনা চলছিল।

উল্লেখ্য, অরূপ চক্রবর্তী ছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের খুবই ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার বিক্ষুব্ধ শিবিরে যোগ দিলেন তিনি।২০২৬- এ বাঁকুড়ায় বিধানসভা নির্বাচনে ১২টি আসনেই পরাজিত হয় তৃণমূল। ফলে তৃণমূল জেলা থেকে একপ্রকার ধুয়ে মুছে সাফ। তৃণমূলের একমাত্র ও শেষ অবলন্বন হিসাবে টিকে ছিলেন বাঁকুড়া লোকসভার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। এবার তিনিও যে দিদির সাথে সম্পর্কে ইতি টানতে চলেছেন এটা স্পষ্ট হয়ে যেতেই বাঁকুড়া জেলা থেকে তৃণমূল একেবারে নির্মূল হয়ে গেল বলে মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল। তাদের বক্তব্য, অরূপ চক্রবর্তী ছিলেন বাঁকুড়া জেলায় তৃণমূলের কান্ডারী।রবিবারের গোপন বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর সোমবার দুপুরে দিল্লিতে ৯ নাম্বার মতিলাল নেহেরু মার্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ ১২ জন সাংসদ বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, এই সাংসদদের মধ্যে বাঁকুড়ার লোকসভার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীও ছিলেন। অবশ্য এ বিষয়ে সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। মোবাইল সুইচ অফ ছিল। বিধানসভা ভোটের পর অরূপবাবু চিকিৎসার জন্য দিল্লি যান। তারপর ওখানেই থেকে গিয়েছিলেন। জেলায় তার ঘণিষ্ঠ তৃণমূল নেতারা একের পর এক গ্রেপ্তার হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এমনকি তিনি জেলায় ফিরে আসেননি। এই দাপুটে তৃণমূল নেতা বাঁকুড়া জেলায় তৃণমূল রাজনীতির চানক্য হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘাসফুল শিবির থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। জেলা রাজনীতির ওয়াকিবহাল মহলের মতে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক কেটে ফেলা ছাড়া উপায় ছিল না তার। তাদের ধারণা গ্রেপ্তারির একটা আশঙ্কা ছিলই। সেই কারণে বিধানসভা নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর পরই তিনি দিল্লিতে গিয়ে চিকিৎসার পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে শুরু করেন। সেই মতো বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের বৈঠকে অরূপ বাবু হাজির হন৷ দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে সোমবার দুপুরের বৈঠকেও অংশ নেন। এই বৈঠকের পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় সেদিকেই নজর বাঁকুড়া সহ সারা রাজ্যের মানুষের।

এদিকে অরূপবাবু তৃণমূল ছাড়ছেন, এই খবর বাঁকুড়ায় রটে যাওয়ার পর বিতর্কের ঝড় উঠেছে। জেলার অধিকাংশ মানুষ এটা খোলা মনে মেনে নিতে পারছেন না। অরূপ চক্রবর্তী সহ এ রাজ্যের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা তিনটি গাড়িতে করে ৯ নাম্বার মতিলাল নেহেরু মার্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে আলোচনা চলে। এই সভায় দুই বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানাগেছে। এই বিক্ষুব্ধরা উপযুক্ত সংখ্যক সাংসদ নিয়ে (১৮ জন সামিল হওয়ার সম্ভাবনা) সোজাসুজি বিজেপিতে যোগ দিতে পারে। তবে তার সম্ভাবনা কম, কারণ বিজেপির নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা তৃণমূল সাংসদদের দলে নিতে রাজি নয়। এখানে বিদ্রোহের ভয় রয়েছে। তাই লোকসভাতেই আলাদা ব্লক করে বসতে পারেন। এটাই এখন রাজ্য রাজনীতির বড় খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *