আমাদের ভারত, ৮ এপ্রিল: এবার নির্বাচন কমিশনকেও হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের তাঁকে শোকজের প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “আমাকে দশ বার শোকজ করলেও কিছু যায় আসে না। আমার উত্তর একই থাকবে।” বরং তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, নন্দীগ্রামে মুসলমানদের যারা পাকিস্তানি বলেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কটা অভিযোগ হয়েছে? খালি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ?” অর্থাৎ তিনি আবারও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাত মূলক আচরণের অভিযোগ তুললেন।
নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগি করার না করার কথা বলে মমতা বিধিভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ। ৩ এপ্রিল তারকেশ্বরের জনসভায় তৃণমূল সুপ্রিমোর বার্তা ছিল, “সংখ্যালঘু ভাই-বোনেদের কাছে হাতজোড় করে একটা কথা বলব, ওই শয়তান ছেলেটা(আব্বাস সিদ্দিকি) বিজেপির টাকা নিয়ে বেরিয়েছে। ওর কথা শুনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করবেন না। ও সাম্প্রদায়িক কথা বলে। বিজেপির টাকা নিয়ে বেরিয়েছে যাতে মুসলিম ভোট ভাগ হয়ে যায়। বিজেপি এলে দুর্ভোগ আপনাদেরই বেশি এটা মাথায় রাখবেন।”
এরপরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি অভিযোগ ধর্মের ভিত্তিতে ভোট প্রচার করছেন তিনি। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মমতাকে নোটিশ পাঠায় কমিশন। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। নোটিশে জানানো হয়েছে ৩ এপ্রিলের ভাষণটি খতিয়ে দেখা হয়েছে। জনপ্রতিনিধি আইন এবং নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়া হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।
এদিন হাওড়া ডোমজুড়ের জনসভায় মমতা বলেন, হিন্দু-মুসলমান সবার সাথে আছি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লাভ নেই। তারা রোজ হিন্দু-মুসলমান করছে, তাদের বিরুদ্ধে কটা অভিযোগ হয়েছে”। তার স্পষ্ট বক্তব্য “আমাকে ১০টা শোকজ করলেও কিছু আসে যায় না। আমার বক্তব্য একই থাকবে।”
নেত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে,বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার পাল্টা কটাক্ষ করে বলেছেন, “অন্য কাউকে কেন শোকজ করা হচ্ছে না তাই আমাকেও করা যাবে না। এ এক অদ্ভুত যুক্তি দেখালেন মাননীয়া। উনি তো কমপ্লেইন করছেন তাতে বিষয়বস্তু না থাকলে কি করা যাবে?”

