একশো দিনের কাজের টাকা না দেওয়ায় বাঁকুড়ার কর্মিসভা থেকে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক মমতার

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১ জুন: একশো দিনের কাজের প্রকল্পের টাকা বন্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার এই অভিযোগে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৫ জুন রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ ও মিছিলের ডাক দিলেন।

আজ সকালে বাঁকুড়া শহরের গন্ধেশ্বরী নদী সংলগ্ন চরে আয়োজিত এক কর্মিসভায় এই ডাক দিয়ে ঐদিন রাজ্যের প্রতিটি এলাকায়, ওয়ার্ডে মিছিল, মিটিং করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাঁচ মাস হয়ে গেল কেন্দ্রের মোদী সরকার একশো দিনের কাজে প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিজেপি একটা অপদার্থ দল। এরা মানুষের ভালো করতে জানে না। নির্বাচনের সময় বলেছিল বিনা পয়সায় গরিবদের উজ্জ্বলা যোজনায় গ্যাস দেওয়া হবে। সবাই খুব খুশী হয়েছিল। এখন কোথায় উজ্জ্বলা ? ৮০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হবে। মানুষ এত টাকা পাবে কোথায়? তার চাইতে স্টোভে রান্না করা ভালো, কিন্তু কেরোসিন পাওয়া যাচ্ছে না, গম ও দিচ্ছে না। এবার সেই পুরনো দিনের মত কাঠে রান্না করতে হবে‌।বিজেপির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, রেলে নব্বই লক্ষ পদ তুলে দেওয়া হচ্ছে, ব্যাঙ্ক বিক্রি করে দিচ্ছে, সবই বিক্রি করে দিচ্ছে অর্থাৎ দোকান তুলে দিচ্ছে।

এদিনের কর্মিসভায় নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুক্ষণ আগেই তিনি সভাস্থলে হাজির হন।গতকাল হঠাৎ প্রয়াত সঙ্গীত শিল্পী কেকে’র প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি কলকাতায় ফিরে যাবেন বলে এদিনের সভায় নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি বক্তব্য রাখেন। এদিন মাত্র কুড়ি মিনিট সময় ব্যয় করেন সভার জন্য। তারপরই তিনি সভাস্হল সংলগ্ন অস্হায়ী হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

এদিনের সভায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এক বছর পর তিনি বাঁকুড়ায় এলেন। বাঁকুড়ার জন্য তার মন কাঁদে। গত নির্বাচনে তিনি বাঁকুড়া এসেছিলেন, কিন্তু নির্বাচনে ভালো ফল হয়নি, এজন্য হয়তো আমাদের ভুল ছিল অথবা বিজেপি মানুষকে ভুল বুঝিয়েছিল। লোকসভাতে আমরা এই জেলায় যেমন কোনও আসন পাইনি, তেমনি বিধানসভায় মাত্র চারটি আসন পেয়েছি, তা সত্বেও রাজ্যে আমরা অনেক আসন পেয়ে সরকার গড়েছি।

তিনি সভায় উপস্হিত কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, হেরে গেছি বলে চুপ করে বসে থাকলে চলবে না, মানুষের ঘরে ঘরে পৌছাতে হবে। তাদের বলতে হবে বিনা মূল্যে রেশন দিচ্ছে কে? তৃণমূল সরকার। স্বাস্থ্য সাথী করেছে কে? তৃণমূল আবার কে। লক্ষ্মীর ভান্ডার দিচ্ছে কে? তৃণমূল সরকার আবার কে। এরূপ শ্লোগান তুলে তিনি কর্মীদের উজ্জীবিত করেন। তিনি বলেন, এখন থেকেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে উৎখাতের জন্য লেগে পড়তে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি মঞ্চে উপবিষ্ট অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখিয়ে বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে সায়ন্তিকা এখানে ভোটে দাঁড়িয়ে হেরে গেলেও তিনি বাঁকুড়া ছেড়ে যাননি। এই রকম মনোবল চাই, আগামী দিনে জিততে হবে।

এদিন সভার শুরুতে তিনি বাঁকুড়ার পড়ুয়াদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এ জেলার ছেলে মেয়েরা গর্বের, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে এই জেলার ছেলেরা ভালো ফল করে। এবারের পরীক্ষার্থীদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্যই আমি এখানে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি, গত কালই আমি ভাইস চ্যান্সেলরকে বলেছি আইপিএস, আইএএস ইত্যাদি তৈরি করতে হবে, এজন্য স্পোকেন ইংলিশ শিক্ষার ব্যবস্থা করতে। তিনি বলেন, বড়জোড়ার শিল্পাঞ্চলের মতো আরও ৭০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *