আমাদের ভারত, ৩১ জানুয়ারি:রাজ্য ও রাজ্যপালের সংঘাতে নয়া মাত্রা যোগ হলো। টুইটারে জগদীপ ধনখড়কে ব্লক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে একথা নিজেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান তিনি বাধ্য হয়েছেন এই কাজ করতে। এর জন্য ক্ষমা চান তিনি। এর জবাবে পাল্টা টুইট করেছেন রাজ্যপালও।
রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে তৃণমূল সরকারের সংঘাত সুবিদিত। উভয়পক্ষের মধ্যে একের পর এক ইস্যুতে যুদ্ধ চলতেই থাকে। নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে স্কুল কলেজ খোলার ঘোষণার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে টুইটারে তিনি ব্লক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বাধ্য হয়েছি আমার টুইট অ্যাকাউন্ট থেকে ওনাকে ব্লক করে দিতে। কারন প্রতিদিন আমার ইরিটেশন হতো ওনার টুইটগুলি দেখে”। তিনি বলেন, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় প্রতিদিন টুইট করে কখনো তাকে, কখনো রাজ্য সরকারের আমলাদের অগণতন্ত্রীয়, অসৌজন্যমূলক ভাষায় নির্দেশ দিতেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”আমরা নির্বাচিত সরকার হয়েও যেন বন্ডেড লেবার। এদিকে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় একটিও নির্বাচনে জিতে আসেননি। তিনি শুধুমাত্র মনোনীত হয় সবার মাথার উপর সুপার পাহারাদার হয়ে গিয়েছেন বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার অভিযোগ প্রতিদিন অফিসারদের ডেকে পাঠিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। এদিকে কোন ফাইল ছাড়ছেন না। বহু ফাইল আটকে রয়েছে, সোফায় ফেলে রেখে দিয়েছেন। দেখা করে কথা বলেও কোন লাভ হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন গত এক-দেড় বছর ধরে সহ্য করে যাচ্ছি। এ প্রসঙ্গে বাম জমানায় উদাহরণ টানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বাম জমানায় জ্যোতি বসুর সময় রাজ্যপাল ছিলেন ধর্মবীর। তিনি তখন কিছু ফাইল সই করেননি। তা নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল। শেষমেষ তাকে সরে যেতে হয়েছিল।” অন্যদিকে গণতন্ত্র বাঁচানোর কথা উল্লেখ করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কেও সরানোর জন্য সরাসরি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে অনুরোধ করেছেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

