বাঁকুড়া পুরসভা দখলে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া,২৭ ডিসেম্বর: পুর নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে। বাম-ডান সব রাজনৈতিক দলের তৎপরতা তুঙ্গে। টিকিট পাওয়ার জন্য তদ্বির শুরু হয়ে গেছে আরও আগে থেকেই। নির্বাচন ঘোষণা হতেই তা আরো জোরালো হয়েছে। টিকিট প্রত্যাশীদের চাহিদা সবচেয়ে বেশী তৃণমূলের।টিকিট প্রত্যাশীরা যে যার মতো লবি ও নেতাদের ধরাধরি করছে।

অপরদিকে তৃণমূল প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে বিজেপি উঠে এসেছে ঠিকই কিন্তু এই মুহূর্তে বিজেপি ঢেউ কিছুটা হলেও স্তিমিত।যদিও লোকসভা নির্বাচনের পর সদ্য বিধানসভা নির্বাচনেও একটি মাত্র ওয়ার্ড ছাড়া বাকুঁড়া পুর এলাকায় ২৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩ টি ওয়ার্ডেই তৃনমূলকে পিছনে ফেলে বিজেপি এগিয়ে ছিল। সেই নিরিখে বিজেপি কয়েক কদম এগিয়ে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের দখলে থাকা বাকুঁড়া পুরসভা ফের দখলে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ তণমূলের।

বিগত পুর নির্বাচনে তৃণমূল নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে। ২৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি তাদের দখলে আসে।পরবর্তীতে সিপিএমের দুই কাউন্সিলর পুরনো দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেয়।এছাড়া বিগত নির্বাচনে সিপিএম চারটি, কংগ্রেস একটি, সিপিআই একটি, নির্দল এক ও বিজেপি দুটি আসন লাভ করে।বাকুঁড়া পুর নির্বাচনের ইতিহাসে সেবারই প্রথম বিজেপি আসন লাভ করে, যদিও হিন্দু মহাসভা বেশ কিছু আসন পেয়ে এসেছে। কিন্তু লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে পুর এলাকাতেই
তৃণমূলকে পিছনে ফেলে বিজেপি একটি ছাড়া সব ওয়ার্ডেই এগিয়ে যায়। সেই নিরিখে বিজেপি কর্মীরা আশাবাদী বাঁকুড়া পুরবোর্ড দখল করতে, আর সে কারণে দলীয় টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড় বাড়ছে। তেমনই তৃণমূলও বহু আগে থেকেই ঘর গোছাতে শুরু করে বাকুঁড়া পুরসভার হাল দেখে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও চিন্তিত, সেকথা গোপন নেই। পুর সভার ওয়ার্ড ভিত্তিক ডেটা বেস তৈরীর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।এই কারণে দলীয় টিকিট পাওয়ার আশায় টিকিট প্রত্যাশীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাকুঁড়া পুরসভায় বিজেপি কাউন্সিলর তথা বাকুঁড়া সদর কেন্দ্রের বিধায়ক নিলাদ্রী দানা বলেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হলে পুরভোটে বিজেপি আশাতীত ফল করবে।মানুষ তৃণমূলীদের কাজ কারবারে বীতশ্রদ্ধ। পুর পরিষেবা নিয়ে অভিযোগের পাহাড়। নিকাশি ব্যবস্থা, শহর পরিষ্কার রাখা, পানীয় জল সরবরাহ সব ক্ষেত্রেই তৃণমূল বোর্ড চূড়ান্ত ভাবে ফ্লপ। নির্বাচনে মানুষ তার জবাব দেবে।

অপরদিকে তৃণমূল মুখপাত্র তথা পুরসভার ভাইসচেয়ারম্যান দিলীপ আগরওয়াল বলেন, বাকুঁড়া শহরের প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে যা মানুষের কল্পনার অতীত। পানীয় জলের সুরাহা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবা সব সুবিধা পাচ্ছেন পুরনাগরিকরা। আর পুর নির্বাচনের সঙ্গে অন্যান্য নির্বাচনের তুলনা চলে না।তৃণমূলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *