জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর,
২৯ ডিসেম্বর: দলের এক নেত্রীর নাম লাভলি সিং। তাঁকে সামনে পেয়েই তৃণমূলের ‘কালারফুল’ নেতা মদন মিত্র বলে উঠলেন, “ওঃ লাভলি”। হেসেই পাগল সেই নেত্রী। শুধু ওই নেত্রী নন, মঙ্গলবার রাতে মদন মিত্রকে ‘মেজাজে’ পেয়ে রেল শহর খড়্গপুরের শ্রমিক নেতারা প্রায় সকলেই হেসে গড়াগড়ি খাওয়ার জোগাড়। তবে, সেই মদন মিত্র’ই শুভেন্দু অধিকারীকে তুলোধুনা করতে ছাড়লেন না।
একসময় যে শুভেন্দু অধিকারী’র দৌলতে খড়্গপুর-মেদিনীপুরের ভোট বৈতরণী পার করতো তৃণমূল, সেই শুভেন্দুকে কড়া নিশানা করলেন মদন মিত্র। খড়্গপুরের দলীয় কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, খড়্গপুর চাই, খড়্গপুরে জিততেই হবে, বিশ্বাসঘাতক শুভেন্দুকে জবাব দিতে হবে। শোলে সিনেমার ডায়লগ ধার করে বললেন, ইয়ে খড়্গপুর মুঝে দে দে ঠাকুর। বললেন, নেত্রীর নির্দেশ পেলে, খড়্গপুরে খাটিয়া পেতে পড়ে থাকব। মেদিনীপুর জেলা আইএনটিটিইউসি’র একটি সভায় উপস্থিত প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র পৌরভোটের আগে দলীয় কর্মীদের এভাবেই চাগিয়ে দিয়ে গেলেন।
রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা তথা অবিভক্ত মেদিনীপুরের একসময়ের তৃণমূলের প্রধান সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারীকে বেনজির আক্রমণ করে মদন মিত্র বললেন, “শুভেন্দু যদি মায়ের দুধ খেয়ে থাকে, আর বাপের ব্যাটা হয়ে থাকে, নন্দীগ্রাম থেকে ইস্তফা দিক, আমিও কামারহাটি থেকে ইস্তফা দিচ্ছি, ২৯৪ টা বিধানসভার যেখানে বলবে, সেখানেই লড়ে দেখাব। শুভেন্দুকে ওপেন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। মদন মিত্রের সঙ্গে এদিনের সভায় ছিলেন আইএনটিটিইউসি’র জেলা সভাপতি শৈবাল গিরি, জেলা নেতা জহর পাল, পার্থসারথি ঘনা, শশধর পলমল, অসিত পাল প্রমুখরা।
শুধু শুভেন্দু নয়, দিলীপ ঘোষকেও মঙ্গলবার রাতে ‘বেলাগাম’ সুরে কটাক্ষ করে মদন মিত্র বলেন, “দিলীপ ঘোষকে নিয়ে কি আর বলব! ওঁর তো বারমুডা খুলে যাচ্ছে! আলো মানে ফিলিপ আর পাগলা মানে দিলীপ”।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কলকাতা পৌরসভায় নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিমকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে বলব ফিরহাদ হাকিমকে ছাপ্পাশ্রী উপাধি দিতে”! তারই প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার রাতে মদন মিত্র খড়্গপুরে দাঁড়িয়ে বলেন, “শুভেন্দু’র মতো চোর-ছ্যাচ্চর-ফেরেব্বাজ আর কেউ নেই। ওঁকে আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি , মায়কা লাল হলে আমার বিরুদ্ধে লড়ে দেখা”! এদিন, বেলদা আর খড়্গপুর দু’জায়গাতেই রীতিমতো মেজাজে ছিলেন মদন মিত্র। বেলদা’র এক ক্লাবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শেষেও শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মদন মিত্র বলেন, “শুভেন্দু তো চুরি করে জিতেছে! মায়ের দুধ খেয়ে থাকলে, আমার বিরুদ্ধে একবার লড়ে দেখা।”

