আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৭ ফেব্রুয়ারি: “দল যদি মনে করে দূর থেকে শুনে চুকলিবাজি করে রেকর্ডিং করে নেতাকে শুনিয়ে দেব, বিরিয়ানি খাইয়ে লুঙ্গি খুলিয়ে ভাল করে মালিশ করবে। তাতেও আমাদের কোনও অসুবিধে নেই। আপনি আমার কামারহাটি নিয়ে আলোচনা করবেন, আমি আপনার বেঙ্গলে ঘোরা আটকে দেব৷ হুইসেল মারব বেঙ্গল ঘোরা বন্ধ হয়ে যাবে।”
কামারহাটিতে প্রার্থী তালিকা নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তৈরী হওয়া অসন্তোষ মেটাতে এসে নাম না করে কড়া ভাষাতে সাংসদ সৌগত রায়কে আক্রমন করলেন বিধায়ক মদন মিত্র। পৌরসভার প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি কামারহাটি পৌরসভা এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায় তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। কর্মীদের বিক্ষোভ অসন্তোষের জন্য কামারহাটির রথ তলা মোড়ে কর্মীসভার আয়োজন করা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। এই কর্মীসভায় এসে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, “যে প্রার্থীর নাম দিয়েছেন সেই নেতার যদি সাহস থাকে তাহলে কামারহাটির কাছে বিটি রোড দিয়ে যাতায়াত করে তিনি দেখান। কামারহাটির মানুষ তাকে বুঝে নেবে। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা তোলা তুলে যাদের নাম প্রার্থীর তালিকায় দিয়েছেন সেই নেতাই এরকম করে শান্ত কামারহাটিকে অশান্ত করছেন।”
নাম না করে সৌগত রায়ের উদ্দেশ্যে জোরাল অভিযোগ এনে মদন মিত্র বলেন, “২০০৯ থেকে কামারহাটিতে আমরা তিনবার এমপি পেয়েছি৷ এখনও পর্যন্ত কামারহাটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্কাইওয়াক আর সাগর দত্ত ছাড়া কি পেয়েছে, জানতে চাই৷ মানুষের ক্ষোভ সামনে আসছে, মানুষ বলছে- কেমন আপনাদের নেতা যে বিরিয়ানি খাওয়ায় আর তেল মাখায় এর বাইরে একজনকে চাকরি দেননি৷ আমি কারও নামে গালাগালি করতে চাই না৷ তবে বলছি, আপনারা কি ভেবেছেন? বাবার জমিদারি? ১৩ বার দাঁড়িয়েছেন৷ ৯ বার জিতেছেন৷ ১৩ টা জায়গা থেকে লড়েছেন৷ মদন মিত্র ভিখারি নয়, রোজ সিট পাল্টে আপনার মতো পালিয়ে যায় না৷”
স্বাভাবিকভাবেই মদনবাবুর এহেন বিস্ফোরক বক্তব্যে কামারহাটিজুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা৷ অধ্যাপকের নাম না করে এরকম ধরনের আক্রমণে কামারহাটি এলাকাজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে যথেষ্ট উত্তেজনা।

