অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১০ জুন: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রচুর নম্বর। কিন্তু পাঁচ দশকে পড়ুয়াদের সার্বিক মান কি আদৌ বেড়েছে? ‘হ্যাঁ’ বলতে মোটেই রাজি নন দিল্লির একটি নামী স্কুলে দীর্ঘকাল অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করা শিক্ষাবিদ সুব্রত সেন।
বালিগঞ্জ রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয় থেকে ’৭৩-এ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান শাখায় ভাল নম্বর পাওয়া সুব্রত এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমাদের সময় তিন বছরের পাঠ্যক্রম নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক হত। তাই পাঠ্যক্রমের বোঝাও প্রচুর ছিল। বড় বড় উত্তর লিখতে হত বলে বুদ্ধি এবং মুখস্থ দুটোই দরকার ছিল। বেশি নম্বর পেতে খুব মুস্কিল হত।
কিন্তু এখন প্রশ্নপত্র তৈরি হয় এক বছরের পাঠ্যক্রমের ওপর। প্রশ্নগুলোও ছোট, মিশ্রিত। পরিচ্ছেদে ভাগ করা উত্তর। পদ্ধতিটা মোটামুটি জানা। তাই এখন পড়ুয়াদের একটা বড় অংশ কোনও বিষয়ের ভিতর ঢুকতে চায় না। পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রশ্নোত্তরের ওপর জোর দেয়। দিল্লির কলেজগুলোয় কিছু বিষয়ে ৯৮/৯৯ শতাংশ নম্বর চায়। যা আমাদের সময় কল্পনার অতীত ছিল। পরীক্ষাপত্র দেখার পদ্ধতিও সম্পূর্ণ আলাদা।
আমাদের সময়ে ভাল নম্বর মানে ভাল পড়ুয়া বোঝাতো। এখন তো অনেকেই ৯০ শতাংশের ওপর নম্বর পাচ্ছে। তাই গুণগত মান বদলাচ্ছে। সরকারও চায় সবাই বেশি নম্বর পাক। তাই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও নানা প্রবেশিকায় বসতে হচ্ছে। ফুলে ফেঁপে উঠছে টিউশন সেন্টারগুলো। মান বাড়ল, না কমল?”

