আমাদের ভারত, ২৬ আগস্ট: কলকাতা পৌরসভা এবার সনাতনী মেয়র পেতে চলেছে। পুরো ভোটের পরিচালনার জন্য কমিটির ইনচার্জের দায়িত্ব পেয়েই একথা বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি আরো বলেন যে, পুরোসভার লোগোতে তিন দিকে পদ্মফুল ও একদিকে স্বস্তিক আছে, সেখানে আগামী দিনে সনাতনী মেয়র বসবে। কলকাতা পৌরসভা পুরনো হৃত গৌরব ফিরে পাবে।
কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি, কিন্তু নির্বাচনের কৌশল নির্দিষ্ট করতে ইতিমধ্যেই পদ্ম শিবির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করে ফেলেছে। কলকাতা পৌরসভা ভোটের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। আর দায়িত্ব পেয়েই জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ১৭০ থেকে ৮০টি আসন পাবে বিজেপি।
আগামী নভেম্বরে হতে পারে কলকাতা পৌরসভা নির্বাচন। আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বোর্ড গঠন করার বিষয়ে একাধিক বার ইঙ্গিত দিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। এই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে কৌশল সাজাচ্ছে শাসক শিবির। সেই প্রেক্ষিতেই সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, ১৪৪টি ওয়ার্ডের হিসেবে বিগত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে বিজেপি ১০১ আসনে এগিয়ে রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২০৯টি আসন হলে দল অনায়াসে ১৭০ থেকে ১৮০টি আসনে জিতবে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর কলকাতা পৌরসভা থেকেও বিজেপির ঝড় ওঠার বিষয়ে আশাবাদী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায়, এই ভোটে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি হতে চলেছে, অন্য কোন দল না। কারণ বিধানসভা ভোটের নিরিখে পুরসভায় ১০১ আসনে এগিয়ে থাকলেও এবার সেই সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছেন তারা।
পুরো ভোটে প্রার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতির কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একটি এসওপি তৈরি করবে দল। এসওপি অনুযায়ী প্রার্থী বাছাই হবে। সমাজের সব স্তরের মানুষকে তালিকায় রাখা হবে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষকে অগ্রাধিকার দেবে দল। এছাড়াও যারা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে জড়িত তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দলের সকলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী বাছাই হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্য সভাপতি।
একই সঙ্গে বিজেপির অতি উৎসাহী নেতাদেরকেও সতর্ক করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায়, কেউ যদি মনে করেন আমি প্রার্থী হয়ে গিয়েছি তাহলে তাকে পরে আফসোস করতে হবে। তারা আফসোস করবেন এবং কাঁদবেন।
ভালো তৃণমূল নেতা কি বিজেপির প্রার্থী তালিকায় জায়গা পাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ভালো ও কাল দুটোই আপেক্ষিক। তাই আপেক্ষিক বিষয় নিয়ে রাজনীতিতে কথা না বলাই ভালো।

