Prophet’s Day, Hosnabad, বিশ্ব নবী দিবসে হোসনাবাদে মানবিকতার নজির! প্রাকৃতিক বিপর্যয় উপেক্ষা করে রক্তদান ও স্বাস্থ্য শিবিরের পাশাপাশি সবুজায়ন ও পথ নিরাপত্তার বার্তা

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৬ আগস্ট: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা ও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করেই শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ‘বিশ্ব নবী দিবস’ উপলক্ষে একাধিক সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করল হোসনাবাদ জলসা কমিটি। মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে হোসনাবাদে আয়োজিত এই কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল রক্তদান শিবির। শিবিরে অর্ধ শতাধিক মহিলা-সহ প্রায় শতাধিক মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।

মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে। ভয়াবহ বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে সবুজায়নের বার্তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আয়োজন করা হয় স্বাস্থ্য শিবির। পথ নিরাপত্তা নিয়েও সচেতনতা প্রচার করা হয়। সব মিলিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই আয়োজন সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবকল্যাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বিশ্ব নবী দিবসের মতো শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দিনে রক্তদানের মতো মহৎ কর্মসূচি সমাজে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। রক্তের প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা, পথ নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

শিবিরে উপস্থিত শাহ আদিল মসজিদের ইমাম মৌলানা আজহার হোসনাবাদ জলসা কমিটির এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করাই মানবিকতার অন্যতম বড় পরিচয়। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা ও পথ নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামাজিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার জন্য তিনি আয়োজকদের সাধুবাদ জানান।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হোসনাবাদ জলসা কমিটির সভাপতি সেক আরেফুল, সম্পাদক সেক সেমিম, শাহ আদিল মসজিদের ইমাম মৌলানা আজহার- সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং কমিটির সকল সদস্য। তাঁদের উপস্থিতিতে রক্তদান শিবির ও অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

হোসনাবাদ জলসা কমিটির এই উদ্যোগে একদিকে যেমন রক্তদানের মাধ্যমে মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ, সবুজায়ন, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং পথ নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়াস দেখা গেছে। বিশ্ব নবী দিবসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে এমন বহুমুখী সামাজিক উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *