জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৮ ডিসেম্বর: সোমবার রাতে খড়্গপুর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বেনাপুরে এক ব্যবসায়ীর দোকানে ডাকাতির ঘটনায় নগদ ও গয়না মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের সামগ্রী লুট হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়্গপুর গ্রামীণ থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, রেল শহরের কৌশল্যার দিক থেকে বেনাপুরে ঢোকার মুখে একটি তিনতলা বাড়ি করে সুবল দাস নামে ওই ব্যবসায়ী মাছ ও সবজি ছাড়া সব রকম সামগ্রীর খুচরো ও পাইকারি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বাড়িরই একটা অংশে স্ত্রী, পুত্র এবং পুত্রবধূকে নিয়ে থাকেন তিনি। দোকানে কোনও কর্মচারী না রেখে নিজেরাই দোকান চালাতেন। সোমবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ দোকান বন্ধ করার সময় ২ জন ব্যক্তি দোকানে ঢুকে মাস্ক কিনতে চায়। দোকান মালিক সুবলবাবু মাস্ক আনার জন্য মুখ ফেরাতেই দুই দুষ্কৃতী ভেতরের দিক থেকে দোকানের সাটার নামিয়ে দেয়। সুবলবাবু প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে বন্দুকের বাঁট দিয়ে কোমরে আঘাত করা হয়। এরপর আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সুবলবাবু এবং তার ছেলেকে বেঁধে ফেলে দুই দুষ্কৃতি ক্যাশ থেকে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ও বাড়ির ভেতরে আলমারিতে থাকা স্ত্রী ও পুত্রবধূর ১০ ভরিরও বেশি সোনার গহনা নিয়ে পালায়। যাওয়ার সময় দু’জনের মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় বলে ওই ব্যবসায়ীর দাবি। তবে ভেতরে ২জন ঢুকলেও বাইরে আরও কয়েকজন দুষ্কৃতি ছিল বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ঘন্টা দুয়েক পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। রাত ২টো পর্যন্ত লুটের জায়গা পরিদর্শন করে। পরে বারোবেটিয়া এলাকা থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ। অন্য মোবাইলটিতে রিং হলেও সেটির খোঁজ পাওয়া যায়নি। পুলিশের অনুমান অন্য মোবাইলটিও রাস্তায় ফেলে গেছে দুষ্কৃতিরা। পুলিশ বেনাপুর রেল লেবেল ক্রসিং ও বারোবেটিয়া সংলগ্ন একটি মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতিদের গতিবিধি ট্র্যাক করার চেষ্টা করছে। তবে রাস্তায় একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করার পর পুলিশের অনুমান লুটের পর খড়্গপুর শহরের দিকেই ঢুকেছে দুষ্কৃতিরা।

