“মেরুদন্ড বিক্রি করে সেই মাননীয়ার আঁচল ধরলেন”, জয়প্রকাশের দল বদল প্রসঙ্গে কটাক্ষ লকেটের

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৯ মার্চ: অনেক বড় বড় কথা বলেছিলেন। মাননীয়া মাননীয়া বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেক ভাবে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছিলেন। এখন মেরুদন্ড বিক্রি করে দিয়ে উনি সেই মাননীয়ারই আঁচল ধরলেন। আজ বাঁকুড়ায় এসে জয়প্রকাশ মজুমদারের তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে এভাবেই তাকে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেত্রী সাংসদ লকেট চ্যাটার্জি। আজ তিনি সায়ন্তন বসু ও রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়ায় এসেছিলেন দলের সদ্য প্রয়াত নেতা গুনময় চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে।

উল্লেখ্য, বাঁকুড়ার বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা গুণময় চট্টোপাধ্যায়(৮১) সোমবার বার্ধক্যজনিত কারণে প্রয়াত হন। তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনকে সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়াত নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন তিনি। হুগলির সাংসদের সঙ্গে গুণময় চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান বাঁকুড়ার সাংসদ কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার, দলের পুরানো দিনের নেতা অজয় ঘটক, জেলা সভাপতি সুনীলরুদ্র মন্ডল।

তার বাড়ি থেকে এসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে লকেট চ্যাটার্জি বলেন, ভাবতে লজ্জা লাগে যে জয়প্রকাশ মজুমদারের সাথে রাজনীতি করেছি। যেখানে লাথি খেয়েছে, পিঠের সে দাগ এখনও আছে, সেই দলে যেতে লজ্জা করল না ওনার। তৃণমূলের বিরুদ্ধে এত এত সন্ত্রাসের কথা, দুর্নীতির কথা বলেছেন তারপর ওদের পায়ের তলায় গিয়ে বসতে হচ্ছে। রাজ্যবাসী দেখলেন একেবারেই পিছনের সারিতে বসে আছেন। তবে ভালোই হয়েছে গিয়ে। লকেট বলেন, এনারাই হয়তো বিধানসভা ভোটের গদ্দার ছিল বিজেপিতে। তাই হার হয়েছে। এনারা উপরে বিজেপি করলেও ভিতরে ভিতরে তৃণমূলেরই চর ছিলেন। তিনি বলেন, এখনও কয়েকজন জয়প্রকাশ রয়েছেন, তারা যত তাড়াতাড়ি বিজেপি ছাড়েন ততই মঙ্গল।

এরপর সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, সমালোচকরা বলছেন আপনিও বিজেপির বিক্ষুব্ধদের দলে? তাই বাঁকুড়ার বিক্ষুব্ধ নেতা কর্মীদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করেছেন। জবাবে তিনি বলেন, এটা মিডিয়ার বানানো গল্প। আমি বিক্ষুব্ধ কেন হব। আমাদের দল তো তৃণমূলের মত এক মালিকানাধীন নয়। বিজেপিতে গণতন্ত্র আছে। সবাই তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারেন। বাঁকুড়ায় পুরানো দিনের কর্মীরা এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে সংগঠন নিয়ে কথা হল। এদিন আমরা মূলত আমাদের প্রয়াত নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলাম। বাঁকুড়ার পুর ভোটে বিজেপির এত খারাপ ফল সম্পর্কে লকেট চ্যাটার্জি বলেন, পুরো সন্ত্রাস করেছে তৃণমূল। ব্যপক ছাপ্পা হয়েছে। মানুষ তৃণমূলকে ঢেলে আশীর্বাদ জানিয়েছেন। এরপরও তৃণমূলকে ছাপ্পার আশ্রয় নিতে হয়। ওদের দলের দুষ্কৃতিরা টিএমসি করাদেরও ভোট দিতে দেয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *