আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১০ অক্টোবর: মণ্ডপে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেল কবিগুরুর সঞ্চয়িতা সমগ্র, নজরুলের সঞ্চিতা, বিদ্যাসাগরের ভ্রান্তিবিলাস, শরৎচন্দ্রের দেবদাস থেকে তারাশঙ্করের গণদেবতা সমগ্র। রামপুরহাট নবীন ক্লাবের এবারের থিম আস্ত একটি গ্রন্থাগার। তবে এই বইগুলি কিন্তু আপনি এখনই নেড়েচেড়ে দেখতে পাবেন না। কারণ মণ্ডপের দুই ধারে রয়েছে দুটি মস্ত বড় তালা। মানে লক-ডাউন। রামপুরহাট ডাক্তার পাড়ার নবীন ক্লাব মানেই অভিনবত্ব। তাই তাদের এবারের ভাবনা লক-ডাউনে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তালা বন্দি মনিষী সমগ্র। এই ভাবনাই ফুটিয়ে তুলেছে মণ্ডপ সজ্জায়। মণ্ডপের বাইরে কবিগুরু থেকে নজরুলের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে প্রফুল্ল রায়ের চরিত্র, বাণী বসুর ক্ষত্রবধূ, সমরেশ মজুমদারের গর্ভধারিণী, বিভূতি ভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথের পাঁচালি ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পুস্তক সামগ্রী।
।
ক্লাবের কর্মকর্তা উজ্বল ধীবর বলেন, “আমরা মণ্ডপ সজ্জার মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছি লক-ডাউনে শিক্ষা ক্ষেত্রের শূন্যতা। গ্রন্থাগারে পুস্তক থাকলেও তা হাতে নিতে পারেনি পাঠক। সেই দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে”।
মণ্ডপ সজ্জায় লক-ডাউনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হলেও প্রতিমা গড়া হয়েছে সাবেকি। প্রতি বছর এই পুজো মণ্ডপ দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। তবে করোনা অতিমারির কারণে সরকার এবং আদালতের নির্দেশ মেনে চলার অঙ্গীকার করেছেন পুজো উদ্যোক্তারা। মণ্ডপের বাইরে রাখা হয়েছে স্যানিটাইজার, মাস্ক। পুজোর উদ্বোধন করেন বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও উদ্যোক্তাদের ভাবনার প্রশংসা করেন।

