আমাদের ভারত, ১ জুলাই: করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এপ্রিল মাসের শেষের দিক থেকে রাজ্যের রেল, মেট্রো পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ লকডাউন জরি না হলেও বেশ কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয় রাজ্যজুড়ে। সংক্রমণ কিছুটা কম হওয়ায় আস্তে আস্তে সেই বিধি শিথিল করা হলেও লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু করা হয়নি এখনো। স্বাভাবিক হয়নি মেট্রো পরিষেবা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সংক্রমণের হার আটকাতে ট্রেন এখনই চালু হবে না। কিন্তু মানুষে সুবিধার কথা ভেবে ট্রেন চালু করার কথা বলেছে বিজেপি। সেই বিষয়ে নজর দিতে সরাসরি রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে চিঠি দিলেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।
পয়লা জুলাই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে রেলমন্ত্রীকে। সাংসদ জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে উঠতে শুরু করলেও রেলের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেছেন রেল পরিষেবা চালু হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে। কারণ অনেক মানুষই জীবনধারণের জন্য দূর-দূরান্ত পথ অতিক্রম করে কর্মস্থলে যান। তাই তাদের কথা মাথায় রেখেই রেল পরিষেবা চালু করা প্রয়োজন।
রেলমন্ত্রীকে তিনি আরও লেখেন, “আপনার মন্ত্রকের দিকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টিতে নজর দেন তাহলে ভালো হবে।” কিন্তু বিজেপি সংসদের এই চিঠিতে রেল পরিষেবার প্রশ্নে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আরও একটু বেগ পেলো বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্য রেল পরিষেবা এখনই চালু করতে চাইছে না। সেখানে সরাসরি রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে রেল চালু করার আবেদন জানালো বিজেপি।
এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যে গণপরিবহন চালু হয়েছে। ৫০% যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে বাস কম থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগের ছবি চোখে পড়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে ট্রেন চালানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন সমস্যা সমাধানে অন্ততপক্ষে ৫০ হাজার বাসের দরকার। বাস ভাড়া নিয়েও সমস্যা আছে যাত্রীদের। বেশিভাড়া দিতে হচ্ছে। গ্রাম থেকে কলকাতার বাইরের লোক না এলে অফিস চলবে কি করে? তার দাবি ট্রেন যদি চলে তাহলে মান্থলি কেটে যাত্রীরা আসতে পারবেন, বেশি ভাড়া দিতে হবে না। ট্ তাই ট্রেন আগে চলা উচিত। তাহলে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। রাজ্য সেটা না করে বন্ধ রেখেছে ট্রেন।

