আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১ জুলাই: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর বিধানসভা এলাকায় ভোট পরবর্তী হিংসা এখনও অব্যাহত। সাগর থানার অদূরেই দুই মহিলা বিজেপি সমর্থকের উপর নারকীয় অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সাগরের রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের খুদগুড়িয়া পোল এলাকায়।
অভিযুক্তের নাম অমরেন্দ্রনাথ পাত্র। তিনি এলাকার প্রাক্তন প্রধান তথা তৃণমূল নেতা, পাশাপাশি এলাকার জেলা পরিষদের সদস্য সন্দীপ পাত্রের বাবা। অমরেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলাকার দুই মহিলার চুলের মুঠি ধরে মারধর করার। আক্রান্ত মহিলার নাম মধুরিমা আচার্য ও তাঁর দিদি শর্মিষ্ঠা মিদ্দে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলে তাকে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ঐ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ফলে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন নির্যাতিতারা।

স্থানীয় সূত্রের খবর, এলাকার বিজেপি কর্মী সুরজিৎ আচার্যের দোকান ঘর দখল করতে যায় ঐ তৃণমূল নেতা অমরেন্দ্রনাথ পাত্র। সুরজিৎ আচার্যের স্ত্রী মধুরিমা অমরেন্দ্রনাথকে দোকান দখল করতে বাধা দেন। অভিযোগ, সেই সময় প্রকাশ্যে রাস্তায় ঐ মহিলাকে চুলের মুঠি ধরে বেধড়ক মারধর করেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। বোনকে মার খেতে দেখে ছুটে আসেন তাঁর দিদি শর্মিষ্ঠা। অভিযোগ, শর্মিষ্ঠাকেও বেধড়ক মারধর করেন অভিযুক্ত। এলাকায় বিজেপি করার কারণেই তাঁদেরকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ঐ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।
মধুরিমা পাত্র এবং শর্মিষ্ঠা মিদ্দাকে দোকানের ভিতর ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে তালা লাগানোরও চেষ্টা করে অভিযুক্ত। তবে পরে তাদের সরিয়ে দিয়ে জোর করে সুরজিৎয়ের দোকানে তালা মেরে দেন প্রাক্তন প্রধান। এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে সমস্ত মহলে। সাগর বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা এই ঘটনাকে অনভিপ্রেত বলেছেন। পাশাপাশি এই ঘটনায় রাজনীতি নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।

