আবার স্কুলে যাবে বলে নাচছে ছোট্ট ঐশী, ফেসবুকে সানন্দে ভাগ করলেন আমলা–মা

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৫ ফেব্রুয়ারি: একদিকে করোনার সতর্কতা। অন্যদিকে চার দেওয়ালে বন্দী জীবন। দু’য়ের টানাপোড়েনে বছর দুই ধরে ধন্দে সকলেই। সমস্যা বুঝি কিছুটা বেশি ছোটদের নিয়ে। ওঁদের মন খারাপ যেন অভিভাবকদের, আরও নির্দিষ্ট করে বললে মায়েদের অসহায়তা। স্কুল খোলার কথা শুনে তাই লাফাচ্ছে একটি নামী স্কুলের ক্লাশ ফোরের ছাত্রী ঐশি। ফেসবুকে লেখায় সেই ছবি আঁকলেন আমলা অন্তরা আচার্য।

মঙ্গলবার সকালে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্ত্রী, ২০০৬ ব্যাচের আইএএস অন্তরা লিখেছেন, “আমাদের রাজ্যের জন্য গতকাল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি পুনরায় খোলার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে, আমার ছোট মেয়ে আনন্দিত এবং অতি উত্তেজিত৷ আক্ষরিক অর্থে আনন্দে নাচছে৷ মহামারীর দু‘বছর এমন শিশুদের জন্য সত্যিই কঠিন ছিল। হঠাৎ যেন তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছিল স্বাভাবিক রুটিন এবং সামাজিকতা। তাই স্কুল খোলার খবরটি তার কানে সঙ্গীতের মতো বাজছিল। স্কুলের জুতা বের করে দেখল যে সেগুলি এখনও ওর সাথে মানানসই কিনা। হায়, নতুন জুতা এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নতুন জুতা, লাঞ্চ বক্স, স্কুল ড্রেস কিনতে হবে। তবে তার জন্য বড় প্রশ্ন এখনও থেকে যায়, স্কুল কি আগামীকাল আবার খুলবে? এখনও যেহেতু স্কুলের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি (আশা করি শীঘ্রই আসবে) তার ক্লাস শিক্ষিকা সহ আমরা কেউই তাকে স্পষ্ট উত্তর দিতে পারিনি।

তবে সে হাল ছাড়বে না তাই সে অবশেষে আলেক্সাকে জিজ্ঞেস করল, আমার স্কুল কবে খুলবে? বেচারা আলেক্সা..এমনকি তার কাছে এখনও স্পষ্ট উত্তর ছিল না কিন্তু তবুও শিশুটি আশাবাদী এবং আমরাও তাই..স্কুলটি শীঘ্রই আবার খোলা উচিত।“

রাজ্য সরকারের আর এক আধিকারিক শাশ্বতী লাহিড়ি প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “আমার ছেলের কাছেও তাই। সে খুব উত্তেজিত এবং ইতিমধ্যেই পুল কারের পরিবর্তে স্কুল বাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে এবং আরও অনেক পরিকল্পনা৷“ একের পর এক আসছে প্রতিক্রিয়া। অন্তরার ফেসবুক-বন্ধুদের কেউ কেউ ঐশির আবেগের সঙ্গে তাঁদের সন্তানদের ভাবনা ভাগ করে নিতে চাইছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *