নির্বাচন কমিশনকে চিঠি বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের

আমাদের ভারত, ২৩ ফেব্রুয়ারি: ১০৮ টি পৌরসভায় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য বুধবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।

তাতে লেখা হয়েছে-
১) বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিগত ৫ টি পৌরনিগমের ভোটের সময় বার বার অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবিতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীদের তান্ডবে নির্বাচনগুলি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। অবাধে ভোট লুঠ হয়েছে আর রাজ্য নির্বাচন কমিশন কেবল মাত্র দর্শকের ভূমিকা গ্রহণ করেছে।

২) ১০৮ টি পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া থেকেই শাসক দলের দুষ্কৃতীরা অনেক বাম প্রার্থীদের অপহরণ এবং প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের জন্য জোর করে ভয় দেখিয়েছে। ফলস্বরূপ ইতিমধ্যে দিনহাটা, বজবজ, সাঁইথিয়া ও সিউড়ি ৪টি পৌরসভা এবং ২২৭২ টি আসনের মধ্যে ১৯ টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ী হয়েছে। এখন এই সমস্ত দুষ্কৃতীরা বিরোধী প্রার্থীদের প্রচারে জোর করে বাধার সৃষ্টি করছে, বুথ অফিস, পার্টি অফিস ভাঙ্গচুর করছে। এককথায় ভোটার সহ সাধারণ মানুষের মনে ভীতি ও সন্ত্রাসের আবহাওয়া তৈরী করছে। জরুরি ভিত্তিতে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে এবং ভোটররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন কমিশনকে সেই পরিবেশ তৈরী করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩) বিগত পৌরনিগমগুলির নির্বাচনে ভোটের দিন বুথে বুথে সিসি টিভি ক্যামেরাকে বন্ধ করে তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা অবাধে ভোট লুঠ করেছে। ২য় পর্যায়ের নির্বাচনে বিশেষ করে বিধাননগর এবং আসানসোলে যেভাবে মারধর বলপ্রয়োগ করে শাসক দল ভোট লুট করেছে যা শুধু আমাদের করা অভিযোগ নয় বৈদুতিনসহ সমস্ত সংবাদ মাধ্যমে তা প্রদর্শিত হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনার পুররাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেই বিষয়ে উপযুক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনকেই করতে হবে।

৪) পোলিং এজেন্ট নিয়োগের বিষয়ে বামফ্রন্ট বার বার দাবি জানিয়ে আসছে ওয়ার্ডের যে কোনো ভোটার সেই ওয়ার্ডের যে কোনো বুথে পোলিং এজেন্ট হতে পারবেন, কমিশনের ২০২১ সালের এই নির্দেশিকা অনুযায়ী এজেন্ট নিয়োগ করার সুযোগ দিতে হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পুনরায় আমরা এই একই দাবি জানাচ্ছি।

৫) ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টা থেকে ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত বহিরাগতদের নির্বাচনে যুক্ত এলাকায় প্রবেশ নিষেধ করতে হবে। পুর এলাকার সীমানা সিল করতে হবে। বহিরাগতরা যাতে কোনো হোস্টেল, অতিথিশালা বা অন্য কোনো স্থানে ৪৮ ঘন্টা থাকতে না পারে তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬) ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’-এ বিরোধী দলগুলির প্রার্থী, নির্বাচনী ও পোলিং এজেন্টদের শাসক দলের নির্দেশে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও এমনকি রাখার কাজে পুলিশের একাংশের (বিশেষ করে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক) অতিসক্রিয়তা বন্ধ করতে হবে। ভোটের কাজে নিযুক্ত দাগি অফিসারদের আসন্ন ভোটে কোনো দায়িত্ব অর্পন বন্ধ করতে হবে।

৭) ভোট দেওয়ার সময় ভোটারদের সচিত্র পরিচয়পত্র-সহ রাজ্য নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত বিকল্প পরিচিতি পত্রগুলি যেন কঠোরভাবে দেখা হয়। সম্প্রতি বিগত নির্বাচনগুলিতে পোলিং অফিসাররা ভোটারদের কোনো পরিচিতিপত্র না দেখেই ভোট দিতে দিয়েছেন। ফলে অবাধে ভোট লুট হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এপিক অথবা রাজ্য নির্বাচন কমিশন নির্দেশিত বিকল্প সঠিক পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোটারদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

আশা করি, আপনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে, ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেতে আপনার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *