জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৩ ফেব্রুয়ারি: চারমাস ধরে অমিল মজুরি। অনটনে দিন কাটছে অসহায় শ্রমিকদের। বকেয়া মজুরির দাবিতে শেষ পর্যন্ত কর্মবিরতি করে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করল হাসপাতালের অস্থায়ী ঠিকা শ্রমিকরা। তারমধ্যে ‘উটকো’ আন্দোলনকারীর দাদাগিরিতে ধুন্ধুমার কান্ড। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামলো বিশাল পুলিশ বাহিনী। বুধবার ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে।
ঘটনায় জানাগেছে, দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে প্রায় ৮৭ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছে। ওই কর্মীরা নিরাপত্তারক্ষী সহ নানান কাজে যুক্ত। কলকাতার এক বেসরকারি ঠিকা সংস্থার অধীনে রয়েছে ওইসব অস্থায়ী কর্মীরা। অভিযোগ, গত ৪ মাস ধরে তাদের কোনো মজুরি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে জমা পড়ছে না ইএসআই ও পিএফের টাকা। বকেয়া মজুরি না পেয়ে বুধবার তারা কর্মবিরতির ডাক দিয়ে হাসপাতালের গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, “চারমাস মজুরি বকেয়া। করোনা আবহে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে চরম অনটনে দিন কাটছে। জেলাশাসক, শ্রমদফতর সব জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছি। কোনো সুরাহা হয়নি। বর্তমানে চরম সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে পড়ে গেছি। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি। তবে হাসপাতালের কাজে কোন সমস্যা করতে চাই না।”

বিক্ষোভকারীদের দাবি, বকেয়া মজুরি, ইএসআই, পিএফের টাকা মিটিয়ে দিক ওই সংস্থা। তারপর এধরনের এই সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হোক।” এদিকে আন্দোলনের জেরে চাপা উত্তেজনা ছিল হাসপাতাল চত্ত্বরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে দুর্গাপুর নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ পৌঁছায়। দুপুর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল এবং হাসপাতাল সুপারের কাছে দাবিও জানায় আন্দোলনকারীরা। কিন্তু তার মধ্যে অশান্তি শুরু হয় এক ‘উটকো’ আন্দোলনকারীর দাদাগিরিতে। অভিযোগ ওই ‘উটকো’ আন্দোলনকারী আচমকা এক আন্দোলরত মহিলা অস্থায়ী কর্মীর গায়ে হাত দেয় বলে অভিযোগ। এমনকি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। তারপরই হাসপাতালের ভেতর ঢুকে প্রথমে হাসপাতাল কর্মীদের ধমক দেয়। এবং হাসপাতাল সুপারের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। আর তাতেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ফলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারী পাল্টা ওই ‘উঠকো’ আন্দোলনকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়। ফলে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
মুহূর্তেই গোটা হাসপাতাল চত্ত্বরে ধুন্ধুমার কান্ড বেঁধে যায়। হাসপাতালে আসা রোগী ও রোগীর আত্মীয় স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
বেগতিক বুঝে পুলিশ ওই ‘উটকো’ আন্দোলনকারীকে আটক করে নিয়ে যায়। এদিকে হাসপাতাল সুপার ধীমান মন্ডল জানান,” গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়েছে। অশান্তি এড়াতে পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অস্থায়ী কর্মীদের আন্দোলনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের জানিয়েছি।”
পশ্চিম বর্ধমান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস জানান, “গত ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই ঠিকা সংস্থা পেমেন্ট মিটিয়ে দেব বলেছিল। কিন্তু, ওই ঠিকা সংস্থার কোনো খোঁজ খবর নেই। তবে সরকার সরাসরি ওইসব ঠিকা কর্মীদের বকেয়া সরাসরি মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

