দিলীপের ফ্যাসিস্ট মনোভাব প্রকাশ শীতলকুচি-মন্তব্যে, একযোগে দাবি বাম-তৃণমূলের

রাজেন রায়, কলকাতা, ১১ এপ্রিল: রাজনৈতিকভাবে বরাবরই ফ্রন্টফুটে খেলতে ভালোবাসেন আত্মবিশ্বাসী বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। নতুন বঙ্গ বিজেপি বিগ্রেড তৈরিতে তাঁর অবদানের কথা স্বীকার করেন বিজেপি কর্মীরা। কিন্তু কোচবিহারের শীতলকুচির ঘটনার দগদগে ঘা শুকানোর আগেই তিনি যা মন্তব্য করলেন, তা বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে রীতিমতো অস্ত্র তুলে দিয়েছে। দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ফ্যাসিস্ট মনোভাবের পরিচায়ক বলে একযোগে বলেছে বাম তৃণমূল।

রবিবার বরানগরে ভোট-প্রচার থেকে শীতলকুচি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ”এত দুষ্টু ছেলে কোথা থেকে এল? ওই দুষ্টু ছেলেরা থাকবে না বাংলায়। সবে শুরু হয়েছে, এটা সারা বাংলায় হবে। যাঁরা ভেবেছেন বাহিনী বন্দুকটা দেখানোর জন্য এনেছে, বাহিনী শুধু বন্দুকটা দেখাতে আসেনি। কেউ যদি আইন হাতে নিতে আসে তাঁকে যোগ্য জবাব দিতে হবে।’ এর পরে পঞ্চম দফার ভোটের প্রসঙ্গে দিলীপ সংশ্লিষ্ট ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘১৭ তারিখে ভোট দিতে যান, বাহিনী থাকবে। ভোট দিতে না পারলে আমরা আছি। শীতলকুচিতে কী হয়েছে দেখেছেন তো? বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে।’

এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে দিলীপকে প্রথমেই ‘মনুষ্যেতর প্রাণী’ বলে উল্লেখ করেন সৌগত রায়। এরপর তিনি বলেন, ‘৪টা লোক মারা যাওয়ার পরে এই কথা কেউ বলতে পারে? বাংলার মানুষ বুঝবে যে, বিজেপি পরিকল্পনা করে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভোটারদের হত্যা করাচ্ছে। অমিত শাহ এই চক্রান্ত করেছেন। আমরা অমিত শাহের পদত্যাগ চাই। অসভ্য কথা বলাই দিলীপের অভ্যেস। আমি আশা করি, বাংলার মানুষ ওঁকে প্রত্যাখ্যান করবেন। দিলীপবাবুর মধ্যে কোনও মনুষ্যোচিত সেন্টিমেন্ট নেই, মানুষের প্রাণের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই। দিলীপ ঘোষ যে ফ্যাসিস্ট পার্টির এক ওয়ার্কার, সেটাই এক্ষেত্রে বেরিয়ে এল। মানুষ মারাটা ওদের কাছে কোনও ব্যাপার নয়।’

শীতলকুচি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিনিধি নয়, মৃত্যুর কারবারি হতে চায় দিলীপ ঘোষ। এর সঙ্গে যদি বিভাজনের গন্ধ পায়, তাহলে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। এরা অসভ্যের দল, অপদার্থের দল। গতকালের ঘটনায় যারা নিন্দা করে না, কেন এরকম ঘটল তার কারণ খুঁজে বার না করে, যারা মনে করে যা হয়েছে, বেশ হয়েছে, এ তাদের ক্রিমিনালের মতো অসভ্য অপদার্থ অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট মনোভাব ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। দিলীপ ঘোষের এই কথা প্রমাণ করে, শীতলকুচির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *