জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১১ এপ্রিল: ফের উত্তপ্ত পান্ডবেশ্বর। বিজেপির বাড়ি বাড়ি প্রচারে অতর্কিতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রবিবার বিকালে এই ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়াল পান্ডবেশ্বরের ডিভিসি পাড়া এলাকায়। ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছে। যার মধ্যে দুজনের মাথা ফাটে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে, পাল্টা বিজেপির দিকে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।
প্রসঙ্গত, দুদিন আগে পান্ডবেশ্বরের হরিপুরে তৃণমূলের প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জনসভা হয়। তাতে উপস্থিত ছিলেন বীরভুমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডল। তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদের রবিবার ওই বিধানসভা এলাকায় বিজেপির ৪৯টি শক্তিকেন্দ্রে পাল্টা মিছিলের ডাক দেয় বিজেপি। এদিন সন্ধ্যায় ডিভিসি পাড়ায় বাড়ি বাড়ি প্রচারে বেরিয়েছিলেন বিজেপিকর্মীরা। অভিযোগ, তৃণমূলের কিছু দুষ্কৃতি লাঠি, ছুরি নিয়ে হামলা করে বিজেপিকর্মীদের ওপর। ঘটনায় ৫ জন বিজেপিকর্মী আহত হন। তার মধ্যে দুজনের মাথা ফেটে যায়। আহতদের হাাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী। সেখান থেকে পান্ডবেশ্বর থানায় যান তিনি। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে পান্ডবেশ্বরে। শনিবার রাতে তিলাবনি গ্রামে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী প্রচারে গেলে বাধা পান বলে অভিযোগ। গ্রামে ঢুকতেই তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি জয়শ্রীরাম ধ্বনি ও ভারত মাতা জয় বলতে আপত্তি তোলে কিছু গ্রামবাসী। তাতে পাল্টা প্রতিবাদে সরব হয় বিজেপিকর্মীরা। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ওই ঘটনার পর শনিবার রাতেই পাটশাওড়া গ্রামে এক ব্যবসায়ীর দোকানের বাইরে বোমাবাজির ঘটনা ঘটে।
তারপর আজ ডিভিসি পাড়ার ঘটনা। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী বলেন, “বিজেপিকর্মীর প্রচার করছিল। আচমকা তৃণমূলের কয়েকজন গুন্ডা হামলা চালায় মারধর করে বিজেপিকর্মীদের।”

ছবি: থানার সামনে বিজেপি কর্মীরা
তিনি বলেন, “তৃণমূল একটা গুন্ডাকে প্রার্থী করেছে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে এলাকায় বোমাবাজি, গুলি অশান্তি লেগে আছে। আমি তৃণমূলের বিধায়ক থাকাকালীন এসব গুন্ডারা খাঁচায় ছিল। এখন খাঁচা থেকে বেরিয়েছে। প্রার্থী হতেই রক্ত ঝরাচ্ছে সাধারন মানুষের। বিধায়ক হলে আরও অত্যাচার করবে। তবে চিন্তা নেই। রক্ত ঝরিয়ে বিধানসভায় যাবেন, এটা হতে দেব না। ২ মে পর আবারও সবকটাকে পুরোনো খাঁচায় ভরে দেওয়া হবে। পান্ডবেশ্বরের মাটিতে অশান্তি হতে দেব না।”
যদিও, অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুজিত মুখার্জি জানান, ” ডিভিসি পাড়ায় অনুমতি নিয়ে তৃণমূলের পথসভা চলছিল। ওইসময় বিজেপি কিছু বহিরাগত লোকজন নিয়ে হামলা করে। আমাদের কর্মীদের মারধর করে। আমরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

