বিজেপির মিছিলের আগে, পাটশ্যাওড়ায় ব্যাবসায়ীর দোকানের সামনে বোমাবাজি, সরগরম পান্ডবেশ্বর

ছবি: ঘটনাস্থলে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী।

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১১ এপ্রিল: ফের উত্তপ্ত পান্ডবেশ্বর। বিজেপির প্রতিবাদ মিছিলের আগে এক ব্যাবসায়ীর দোকানের সামনে বোমাবাজি। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল পান্ডবেশ্বর বিধানসভার পাটশ্যাওড়া গ্রামে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তিনি। 

উল্লেখ্য, দুদিন আগে পান্ডবেশ্বরের হরিপুরে তৃণমূলের প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জনসভা হয়। তাতে উপস্থিত ছিলেন বীরভুমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডল। তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদে রবিবার ওই বিধানসভা এলাকায় বিজেপির ৪৯টি শক্তিকেন্দ্রে মিছিলের ডাক দেয় বিজেপি। সেই মতো পাটশ্যাওড়া গ্রামে এদিন মিছিল ছিল বিজেপির। তার আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে পান্ডবেশ্বরে। শনিবার রাতে তিলাবনি গ্রামে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী প্রচারে গেলে বাধা পান বলে অভিযোগ। গ্রামে ঢুকতেই তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি জয়শ্রীরাম ধ্বনি ও ভারত মাতা জয় বলতে আপত্তি তোলে কিছু গ্রামবাসী। তাতে পাল্টা প্রতিবাদে সরব হয় বিজেপিকর্মীরা। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

ওই ঘটনার পর শনিবার রাতেই পাটশাওড়া গ্রামে এক ব্যবসায়ীর দোকানের বাইরে বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী প্রদীপ মণ্ডল জানান, “গতকাল রাতে বোমার আওয়াজ পেয়েছি। আজ সকালে দোকান খুলতে এসে দেখি দোকানের বাইরে বোমা ফাটার চিহ্ন। ঘটনার পর আতঙ্কিত।”

আজ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লাউদোহা থানার পুলিশ। পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারী। ঘটনাস্থল দেখে তিনি বলেন, “এসব তৃণমূলের কাজ। আজ বিজেপির মিছিল শুনে এলাকায় অশান্তি ও গ্রামবাসীদের ভীত সন্ত্রস্ত করছে তৃণমূল।” তিনি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে কড়া আক্রমনম করে বলেন, ” বিমানবন্দরে যার ব্যাগ থেকে পিস্তল বের হয়। তার কাছে চকলেট পাওয়া যাবে না। ভোট ঘোষনার পর থেকে বোমা, গুলি নিয়ে এলাকায় অশান্তির বাতাবরণ তৈরী করেছে তৃণমূল। অনুব্রত মন্ডল আসার পর এধরনের বোমাবাজির ঘটনা বেশী শুরু হয়েছে। আমরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি। তবে গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলবে।”

যদিও এবিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা তোপ দেগেছেন তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “চোরের মায়ের বড় গলা। আমি কাছাকাছি রয়েছি। তাতে ১০ মিনিট পর খবর পেলাম। আর উনি আসানসোলে থেকে সাত সকাল সটান পৌঁছে গেলেন পাটশ্যাওড়া গ্রামে। তবে মানুষ সবই বুঝতে পারছে। গত পাঁচ বছরে পান্ডবেশ্বরে তার ভুমিকা কি ছিল। এর জবাব দেবে মানুষ।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *