স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১২ এপ্রিল: হাঁসখালিতে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার পরদিন থেকেই শাসক দলের নেতা-নেত্রীদের পাশাপাশি বিরোধী নেতা ও সাংসদরা হাঁসখালির এই গ্রামে আসছে। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়ছে গ্রামে।
মঙ্গলবার হাঁসখলিতে এসেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। এছাড়াও এদিন আসেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এদিন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র আসেন ঐ কিশোরীর বাড়িতে। এখানে এসে তিনি কিশোরীর বাড়িতেও যান। তিনি সাংবাদিকদের মুখমুখি হয়ে বলেন, “এটা উত্তরপ্রদেশ নয় যে দোষীরা অন্যায় করে ঘুরে বেড়াবে। এটা পশ্চিমবঙ্গ, এখানে তৃণমূলের সরকার। দোষীকে তার অন্যায়ের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে আইনি পথে।

তিনি এও বলেন, এটা খুবই ধিক্কারজনক ঘটনা। পুলিশ যত দ্রুত সম্ভব ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। এইভাবে এক কিশোরীর মৃত্যু খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার বয়ানের ভিত্তিতে তাঁর এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যতদূর জানতে পেরেছি এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ও তাঁর দুই বন্ধু ছিল। যে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না সে একজন দুষ্কৃতি। আমাদের সরকার যা করার করছে দোষীকে কখনই ছেড়ে দেবে না। এই ঘটনায় প্রমাণ খুবই কম পাওয়া যাচ্ছে। কারণ কিশোরীর মৃতদেহ আগেই দাহ করে দেওয়া হয়েছে। মূল অভিযুক্তকে পকসো আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসলে এক নাবালিকার সম্মতি ক্রমে যদি কেও শারীরিক সম্পর্ক করে তাও আইন বিরুদ্ধ। প্রশ্নের উত্তরে মহুয়া মৈত্র বলেন, কী কারণে ঐ কিশোরীর পরিবারকে ভয় দেখানো হয়েছে তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তিনি এও বলেন, আসলে গ্রামের দিকে কেউ মারা গেলে অনেক সময় গ্রামের মানুষ ডাক্তার না দেখিয়েই দাহ করে দেয়। এই ঘটনাতে এমন কিছু ঘটেছে কি না তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। আবার মৃতদেহ দাহ করার সময় কি কারণে মৃতার পরিবার ছিল তারা কেন ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া দাহ করতে দিল তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
জানাগেছে, যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে মূল অভিযুক্তের বাবা পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। যা ঘটনা ঘটেছে তাঁর জন্য পুলিশ ও রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। দোষীকে কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। আমি বলতে চাই যে ঘটনা ঘটে গেছে তার জন্য সরকার ও পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। এই নিয়ে রাজনীতি করে কোনো লাভ নেই। বিরোধীদের এই ভাবেই তিনি জবাব দেন।
এদিন অধীর বাবু এসে ঐ নাবালিকার বাড়ি যান, পাশাপাশি গ্রামের মানুষদের সাথে কথা বলেন। তিনি এদিন শাসক দলকে একহাত নেন। তিনি বলেন, “ঝালদার ঘটনাতে আমরা সিবিআই তদন্ত করিয়েই ছেড়েছি, এই ঘটনাতেও আমারা সিবিআই তদন্ত করে ছাড়বো। এমনটাই ভরসা দেন তিনি গ্রামের বাসিন্দাদের। তিনি এও বলেন, গোটা বাংলাজুড়ে আইন ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে রেখেছে শাসকদল। পুলিশ শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের কথা মেনেই কাজ করে চলেছে। শাসকদল ও পুলিশ নানান ভাবে মৃতার বাবা মা’কে বুঝিয়ে কেসটাকে হাল্কা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যাতে দোষী উপযুক্ত শাস্তি পায় তার জন্য আমরা যতদূর যাওয়ার হয় যাবো। এই নির্মম ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

