সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৯ মে: উত্তর ২৪ পরগনার মছলন্দপুরে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল নেতা অজিত সাহা ও তার ভাই সুজিত সাহার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই শুক্রবার বড়সড় অভিযানে নামে গোবরডাঙ্গা থানার পুলিশ। অভিযানে মছলন্দপুরের শক্তিনগর কানাপুকুর এলাকায় সুজিত সাহার জমি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা কার্তুজ এবং গুলির খোল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তৃণমূল নেতা অজিত সাহা ও তার ভাই সুজিত সাহাকে সঙ্গে নিয়েই ওই এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘক্ষণ খোঁড়াখুঁড়ির পর মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ব্যাগ খুলতেই একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, প্রচুর তাজা গুলি এবং বিপুল পরিমাণ গুলির খোল উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় কার্যত হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় দুষ্কৃতীদের আনাগোনা ছিল। তবে মাটির নিচে এভাবে বিপুল অস্ত্র মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা কেউ ভাবতেও পারেননি। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি কোনো বড়সড় অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। এই অস্ত্র কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এর পিছনে বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা অস্ত্র পাচার চক্রের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসক দলের একাংশের মদতেই বেআইনি অস্ত্রের রমরমা বাড়ছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পাশাপাশি এই অস্ত্র আগে কোনো অপরাধমূলক ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

