বড়জোড়া নর্থ খোলামুখ কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের ফলে বাড়িতে ফাটল, ধসে পড়ার আশঙ্কা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে ধর্না গ্ৰামবাসীদের

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ১৪, ফেব্রুয়ারি: কলিয়ারিতে বিস্ফোরণের ফলে মনোহর গ্ৰামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ফাটল ধরেছে। যে কোনও সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা।উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের দাবিতে গ্ৰামবাসীরা ধর্না ও অবস্থান শুরু করেছেন উত্তর বাঁকুড়ার বড়জোড়া খনি ও শিল্পাঞ্চলের বড়জোড়া নর্থ খোলামুখ কয়লাখনিতে।

অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিনামাইট দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়লার চাঙড় ফাটানোর কারণেই এই ফাটল বলে গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ। অবিলম্বে পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি করে সোমবার সকাল থেকে কোলিয়ারির মুখে ধর্নায় বসেন বাসিন্দারা। এই ধর্না অবস্থানে শিশু থেকে বৃদ্ধ- বৃদ্ধা ও গৃহস্থ মহিলারাই প্রথম সারিতে বসে বিক্ষোভ দেখান।

বিক্ষোভকারী প্রসেনজিৎ খাঁ বলেন, গ্রাম থেকে ৫০ – ১০০ মিটার দূরেই কোলিয়ারি। ফলে ঘর থেকে বেরোলেই ভিন রাজ্যের মানুষের মুখে পড়তে হয় আমাদের। গ্রামের মহিলাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। সিংহ ভাগ জমি এই গ্রামেরই। অথচ কর্মসংস্থান দেয়নি কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ। এই খনির দায়িত্ব পেয়েছে রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম বা পিডিসিএল। এরা দায়িত্ব দিয়েছে মন্টি কার্লোস নামে একটি ঠিকা সংস্থাকে। এই সংস্থা  অবৈজ্ঞানিক ভাবে বিস্ফোরণ করে কয়লার চাঁই ভাঙছে। ফলে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ফাটল ধরে গেছে। বেশিরভাগ বিস্ফোরণ ঘটায় রাতে। যার ফলে সেই সময় যেভাবে কম্পন হয় তাতে মনে হয় বাড়ি এক্ষুনি ধসে পড়বে। বৃদ্ধ এবং শিশুরা আতঙ্কে রাত জেগে থাকে। হৃদরোগীদের সমস্যা আরো বেশি হয়। আমরা বারবার দাবি করেছি, গ্রামের ক্ষেতমজুর পাড়া ও কর্মকারপাড়া দুটিকে অবিলম্বে পুনর্বাসন দিয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। কিন্তু জেলা প্রশাসন এবং কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি গুলিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। শুধুমাত্র মাঝে মাঝে আন্দোলন বন্ধ করতে লোক দেখানো সার্ভে হয়। তারপর কাজের কাজ কিছুই হয় না।

প্রসেনজিৎ খাঁ বলেন, আমরা জেলাশাসক থেকে মুখ্যমন্ত্রী সকলকে আমাদের দাবি এবং গ্রামের বাসিন্দাদের অসহায়তার কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছি।

উল্লেখ্য, এই গ্রামেরই বাসিন্দা সিদ্ধার্থ শংকর রায় মন্ত্রিসভার ভূমি রাজস্ব মন্ত্রী প্রয়াত গুরুপদ খাঁ, বাম সাংসদ ও বিধায়ক সুনীল খাঁ ও সুখেন্দু খাঁ এবং বর্তমান তৃণমূল নেত্রী সুজাতা মন্ডল। তবুও এই গ্রামের মর্যাদা রক্ষায় কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

গ্রামের বাসিন্দা জেলা কংগ্রেস নেতা নারায়ণ চন্দ্র খাঁ বলেন, বাসিন্দারা অরাজনৈতিকভাবে আন্দোলনে নেমেছেন। দাবিগুলি ন্যায্য। দলের পক্ষ থেকে আমরা এই দাবি নিয়ে বহুবার সোচ্চার হয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

সিপিআই(এম) নেতা সুজয় চৌধুরী বলেন, সবচাইতে দুর্দশার কবলে ক্ষেতমজুর  পাড়া। তাদের বাড়িঘর সেভাবে মজবুত নয়। অনেকের ঘর একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। তারপর ফের মেরামত করে কোনো রকমে বসবাস করছেন। ব্যবস্থা না নিলে ভয়ঙ্কর বিপদ অপেক্ষা করছে।

বিজেপি নেতা সুজিত অগস্থি বলেন, রাতের অন্ধকারে লরির পর লরি কয়লা পাচার হয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে বারবার বলেও তা বন্ধ করা যায়নি।

প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তীর অভিযোগ, ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত যতগুলি বিধানসভা অধিবেশন হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি লিখিত ভাবে জানিয়েছি যে, প্রতি রাতে অবৈধ পথে কয়লা পাচার হচ্ছে তা বন্ধ করা হোক এবং মনোহর ও কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি গুলিকে সার্ভে করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি।

এ বিষয়ে বড়জোড়ার বিধায়ক তথা বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি অলক মুখার্জি বলেন, আমাদের সরকার সব সময় জমিদাতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কথাই বলে। যেসব দাবি নিয়ে বাসিন্দারা ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তা পর্যবেক্ষণ ও আলোচনার জন্য বিডিওকে বলেছি। সমস্ত বিষয়গুলি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে খনি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও বড়জোড়ার বিডিও সুরজিৎ পন্ডিত বলেন, মঙ্গলবার কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ ও গ্রামবাসীদের নিয়ে মিটিং ডাকা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করা করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সুত্র বেরিয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *