গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা ভারতীয় জাদুঘরের অছি পরিষদের সদস্য ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাস তাঁর ভাবনার কথা জানালেন অশোক সেনগুপ্তকে।
আমাদের ভারত, ২১ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশ আরবি-মিশ্রিত বাংলা চালাচ্ছে। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্কে চলে যাচ্ছে ওই ভাষা। এখানে বাংলায় অকাদেমী আছে, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ আছে। পরিকল্পনা নেই। সর্বজনমান্য বানান বিধি নেই, সংস্কৃত-জ্ঞান আর মাতৃভাষা চেতনা নেই।
উপরন্তু এই বাংলায় আরবি-পন্থীদের ছদ্মবেশ ধারন আছে। একুশে ফেব্রুয়ারি তো রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলাকে উর্দুর পাশে রাখার দাবিতে আন্দোলন ছিল! একে ভুলভাল বুঝিয়ে মাতৃভাষা আন্দোলন বলে চালানো হচ্ছে! আমরা ১৯ মে ১৯৬১ মনে রাখি না। এগারোজন তরুণ তরুণীর রক্ত ও জীবন দান ভুলে থাকি।
ভাষার মানোন্নয়নের ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা কী?
— রাজ্য সরকার কিছুই করছে না। করলে ১৪০০ বছরের বেশিদিন চলা বঙ্গাব্দ যাদের, তাদের ভাষাকে ধ্রুপদী না বলার কারণ থাকত না। সরকার চালাচ্ছে অশিক্ষিতের দল। মাতৃভাষা তাদের কাছে না রাম, না গঙ্গা। সমাজে ইতরায়ণ (লুম্পেনাইজেশন) সম্পূর্ণ হয়েছে। মাতৃভাষা আম্মা বুলির কাছে হেরে যাচ্ছে। ইংরেজির দাপটও সর্বাঙ্গীন। দিল্লিওয়ালারা ঘোষিত হিন্দী সম্প্রসারণবাদী।
একজন প্রশ্ন করেছেন ভাষায় আবার বানানের শুদ্ধতা কিসের। বোঝানো নিয়ে কথা।
আপনি কি বলেন?
— উক্ত ব্যক্তি ঠিক বলেননি। ভাষা তো শুধু বলার নয় — সংযোগ- পদ্ধতি। ঐতিহ্য তো রক্ষিত হয়ে থাকে লিখিত মুদ্রিত ভাষায়। এখানেই মান্যিকরণ বা স্ট্যান্ডার্ডেজাইশেসন দরকার। এখানে স্বেচ্ছাচার চলে না। বানান ব্যাকরণ এটাই করে। পাণিনির ‘অষ্টাধ্যায়ী’ না থাকলে সংস্কৃত ভাষার অস্তিত্ব থাকত কি না সন্দেহ। বানানে স্বেচ্ছাচার তাই অনভিপ্রেত অন্যায়। পরা আর পড়া তো এক নয়! জামা পড়া নিরর্থক।
পড়ুয়াদের বানান-ব্যাকরণ নিয়ে কতটা আগ্রহ দেখেছেন?
— ৩৭ বছর পড়িয়েছি। বানান আর ব্যাকরণ সম্পর্কে আগ্রহ বড়জোর শতকরা একজনের।
এই ভাষা কি আরও জগাখিচুরি হবে?
—ভাষা জগাখিচুড়ি হচ্ছে
ক) অনুকরণের জন্য। ভদ্র হবার ইচ্ছা থেকে ইংরেজি শব্দের প্রভাব পড়ছে।
খ) মূলত বাংলাদেশী একশিলা (মনোলিথিক) ধর্মবোধ ও অজ্ঞতার কারণে আসছে আবাঞ্ছিত আরবি ফারসি উর্দুর অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে।
গ) সর্বভারতীয় রাজনীতি হিন্দী পন্থী, মনোরঞ্জন তথা বলিউড ফিল্ম ও সংগীত রুচির বিকার ছড়াচ্ছে অহরহ — ফল হিন্দীর আধিপত্য।
***

