আমাদের ভারত, বীরভূম,, ১২ আগস্ট: ভূমি সংস্কার আধিকারিককে তালা বন্ধ করে আটকে রাখা, মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা চাওয়া এবং ডিম ছোড়ায় গ্রেফতার করা হল চারো বিজেপি নেতাকে। তাদের বুধবার রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সকলকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার দুপুরে। ওইদিন দুপুরে ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের দফতরে যান বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভূমি সংস্কার আধিকারিক দীপঙ্কর দাসের কাছে কৈফিয়ত চান। অভিযোগ, অফিসের মধ্যে আধিকারিকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন তারা। এরপরেই দীপঙ্করবাবু মল্লারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে বিজেপির অন্দরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
ময়ূরেশ্বরের বিধায়ক, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ রাতেই অতনু চট্টোপাধ্যায়, শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়, উজ্জ্বল সাহা, বরুণ বাগদিদের গ্রেফতার করে।
যদিও দলের বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল পরোক্ষে ভূমি সংস্কার আধিকারিকের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। যার বিরুদ্ধে বেশি অভিযোগ, সেই অতনু চট্টোপাধ্যায় ২০২২ সালের ৩ জানুয়ারি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে দলের জেলা কমিটির সদস্য। ওইদিন বোলপুরে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল অনুব্রত মণ্ডল। পুরসভা নির্বাচনে রামপুরহাটে এসে বিভিন্ন জায়গায় তিনি বিজেপির বাপ- বাপান্তর তুলে বাজার গরম করেছিলেন। কিন্তু বছর দুয়েক পর তার তৃণমূলে মোহভঙ্গ হয়। ফের বিজেপির সংস্পর্শে থাকতে শুরু করেন। তাকে তৎকালীন বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখতে পাওয়া যায়।
বর্তমান বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, “অতনুকে আগের সভাপতি ফের দলে নিয়েছিলেন”। যদিও প্রাক্তন বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্যাসী চরণ মণ্ডল ওরফে অষ্টম বলেন, “আমি অতনু চট্টোপাধ্যায়কে দলে অন্তর্ভুক্ত করিনি। উনাকে ধ্রুব সাহার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল। পরে নতুন বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তাকে দলের জেলা কমিটির সদস্য করেছেন শুনছি”।
এদিকে বিজেপি নেতা অতনু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের একটি হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে অতনু পাঁচটি পাথর বোঝাই লরি রাজস্ব না নিয়ে ছাড়ার জন্য আধিকারিকের কাছে অনুরোধ করছেন। কিন্তু আধিকারিক অপারগ হওয়ায় তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়ে বসেন মন্দির নির্মাণের জন্য। এমনই অভিযোগ করেছেন ভূমি সংস্কার আধিকারিকও। যদিও অতনুর দাবি তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, “আমাদের কার্যকরতারা যে কাজ করেছে সেটা অনভিপ্রেত। তবে অতনুর সঙ্গে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিকের সম্পর্ক ভালো ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্রে উনারা কথা বলতেন। কিন্তু ভূমি সংস্কার আধিকারিক যেভাবে বিষয়টি থানা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন এটাও কাম্য নয়। আমরা কার্যকরতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত করব। পাশাপাশি ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে সেটা নিয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ধৃতদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ভূমি আধিকারিককে আটকে রাখা, অফিসের সামনে বেআইনি সমাবেশ, সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, জবরদস্তির চাঁদা আদায়, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, সরকারি অফিসে অনধিকারপ্রবেশের অপরাধে ভারতীয় ন্যায় সঙ্গতির ১২৭(২), ১৯০, ১৩২, ২২১, ৩০৮(২), ৩২৪ (৪), ৩২৯ (৪) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

