চিনা আলোর দাপটে যেন প্রদীপের তলায় অন্ধকার, মাটির প্রদীপের বিক্রি না থাকায় অভাবে মৃৎশিল্পীরা

আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০ অক্টোবর: “প্রদীপের নিচে অন্ধকার।” যাদের তৈরি প্রদীপে আলোকিত হওয়ার কথা শহর থেকে গ্রাম, তারাই রয়েছে ঘোর অন্ধকারে। চিনা টুনির দাপটে উদয়াস্ত পরিশ্রম করেও দারিদ্রতা তাঁদের নিত্যসঙ্গী। ঠিক মতো খাওয়াও জোটে না পরিবারগুলির। তবুও উপায় না দেখে আজও চাকা ঘুরিয়ে মাটির প্রদীপ বানিয়ে চলেছেন তাপস পাল, অসিত পাল, সমর পালরা।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন গ্ৰামে বসবাস করেন বেশ কয়েকটি পরিবার। সকলেই পেশায় মৃৎশিল্পী। কালীপুজো এলেই এক সময় এই পরিবারগুলির নাওয়া খাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু এখন সেই ব্যস্ততা হারিয়ে ফেলেছেন তাঁরা। বৈদ্যুতিন আলোর ঝলকানি আর মোমবাতির দাপটে তাঁদের রুজিতে টান পড়েছে। ফলে ধীরে ধীরে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন শিল্পীদের পরবর্তী প্রজন্ম। হতাশায় পূর্ব পুরুষের পেশা ছেড়েছেন অনেকেই। শিল্পীদের নিপুন দক্ষতায় ছাঁচে মাটি ফেলে তৈরি হত হরেক রকমের প্রদীপ। কিন্তু কয়েক বছর ধরে প্রদীপের চাহিদা কমে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা।

মোমবাতি, টুনি বাল্ব ও রাইস ল্যাম্পের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির প্রদীপের চাহিদা। মৃৎশিল্পী সমর পাল জানান, এবার এখনও তেমন অর্ডার আসেনি। অথচ একটা সময় ছিল যখন হাজারেরও বেশি প্রদীপ বিক্রি করা হয়েছে। একদিকে যখন মাটির প্রদীপের চাহিদা ও দাম দিন দিন কমছে, ঠিক তখনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রদীপ তৈরির কাঁচা মালের দাম। বেড়েছে জ্বালানির দামও। এই মন্দা বাজারে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তাঁরা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *