Child marriage, Kusumba, অরণ্য সপ্তাহে বাল্য বিবাহ রোধে শপথ বাক্য পাঠ, কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের

আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৮ জুলাই: বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে বীরভূমের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয়। শনিবার অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছাত্রীদের দিয়ে ফের বাল্য বিবাহ রুখতে শপথ বাক্য পাঠ করানো হলো স্কুলে।

কেন্দ্র থেকে রাজ্য সরকার, বাল্য বিবাহ রোধে লাগাতার প্রচার করে চলেছে। বাল্য বিবাহের খবর পেলে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ করছে। পাশাপাশি কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও মেয়েদের বাল্য বিবাহ না করার শপথ গ্রহণ করালেন প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার মণ্ডল, সমাজসেবী রশ্মি দে, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা সুদেস্না মুখোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে বাড়ি ফিরে বাল্য বিবাহ রোধে তাদের পথে নামার পরামর্শও দেওয়া হয় স্কুলের পক্ষ থেকে।

বছর চারেক আগে গ্রামের কম বয়সী ছেলে- মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই দেখা গিয়েছিল। সেইসব দেখে বাল্য বিবাহ রুখতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার মণ্ডল। ২০২২ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রথম বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে স্কুলের পড়ুয়াদের শপথবাক্য পাঠ করার আবেদন জানান। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসে স্কুলের পড়ুয়া থেকে সহকর্মীরা।

২০২৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৪তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কুসুম্বা হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের একটি আবক্ষ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় স্কুলের বাইরে। ওইদিন উদ্বোধনের পরেই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে স্কুলের পড়ুয়াদের শপথ গ্রহণ করিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার মণ্ডল। একই অনুষ্ঠানে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি স্কুলের ছাত্রদের মাদক দ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকারও শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়েছিল।

এদিন অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একইভাবে ছাত্র- ছাত্রীদের দিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। এদিন ছাত্রদের নেশামুক্তি শপথ বাক্য পাঠ করান রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ আই অফ স্কুল গোলাম কিবরিয়া মালিথ্যা প্রমুখ।

সন্দীপবাবু বলেন, “গ্রাম বাংলায় অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা ভাঙতেই আমাদের এই পদক্ষেপ। শুধু শপথবাক্য পাঠ করাই নয়, নিয়মিত ছাত্রীদের বিষয়ে খোঁজ খবর করি আমরা। সেই সঙ্গে সারা রাজ্যে বাল্য বিবাহ রোধের বার্তা পৌঁছে দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। এই উদ্যোগে ভালো কাজ হয়েছে কুসুম্বা অঞ্চলে”।

এদিন মায়ের নামে একটি গাছ অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ রোপণ করেন ধ্রুব সাহা। এরপর রানী রাসমণির আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন করেন বিধায়ক। তিনি বলেন, “স্কুলের খুব ভালো উদ্যোগ। পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজ গঠনেরও সদর্থক ভূমিকা পালন করছে স্কুল। স্কুল কর্তৃপক্ষ শ্রেণিকক্ষ, সাইকেল স্ট্যান্ড এবং শৌচাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। আমি আমার বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের প্রথম অর্থে দুটি দাবি পূরণ করবো। স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষের জন্য ব্যবস্থা করব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *